September 3, 2026

ডাকসুতে ‘নির্ভীক জুলাই’, শহীদদের স্মৃতি থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

0
img-20260830-wa0074-20260830232810-mtgmxgysp7wo2f4-20260831085035.jpg


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্মৃতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অম্লান রাখার প্রত্যয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ ‘নির্ভীক জুলাই’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে ডাকসু প্রাঙ্গণে শহীদ মেহেদী হাসান জুনায়েদের বাবা, শহীদ সোহেলের বাবা, শহীদ দ্বীন ইসলামের বাবা, শহীদ রমিজ উদ্দিনের বাবা, শহীদ সাইদুল ইসলামের মা, শহীদ জহিরুল ইসলাম শুভর মা ও শহীদ তাহের জামান প্রিয় মা’কে সঙ্গে নিয়ে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম স্মৃতিস্তম্ভটির উদ্বোধন করেন।

এর আগে ৫ আগস্ট ৫০ জন শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। স্মৃতিস্তম্ভটি তৈরিতে সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার।

‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভের ওপর প্রবন্ধ পাঠ করেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. ইকবাল হায়দার। তিনি প্রবন্ধে স্থাপনাটির ভাবনা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ‘জুলাই নির্ভীক’ স্মৃতিস্তম্ভের ধাতব কাঠামোটি এখানে ক্ষতবিক্ষত, কিন্তু ভেঙে পড়েনি; রুক্ষ, কিন্তু দুর্বল নয়; আঘাতপ্রাপ্ত, কিন্তু নত নয়। এটি ঊর্ধ্বমুখী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, জুলাইয়ের সেই নির্ভীক চেতনার এক স্থায়ী স্থাপত্যিক অভিব্যক্তি হিসেবে।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘নির্ভীক জুলাই’ কেবল একটি মনুমেন্ট নয়, এটি ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের অনড় অবস্থানের প্রতীক। এখান থেকেই শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরবেন, এখান থেকেই অন্যায়ের প্রতিবাদ হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে যেন আর কোনো নব্য ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়, ক্যাম্পাসে কোনো গণরুম বা গেস্টরুমের জুলুম ফিরে না আসে, এ স্মৃতিস্তম্ভ আমাদের সব সময় সেই নির্ভীক থাকার অনুপ্রেরণা দেবে। মনুমেন্টের বৃত্তাকার কাঠামোটি আমাদের সেই ঐক্যবদ্ধ শক্তির বার্তাই বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলার জমিনে যতদিন শহীদদের রক্তের বদলা না নেওয়া হবে এবং তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে না উঠবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম থামবে না। যে জমিনে শহীদদের রক্ত ঝরেছে, সে জমিনে ইনসাফের বিজয় হবেই হবে। জুলাই বিপ্লবের শহীদরাই আমাদের আসল নায়ক। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজ আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। শহীদদের এই স্মৃতি ও বার্তা কেবল ক্যাম্পাসে নয়, সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমরা চাই, এই স্মৃতিস্তম্ভে এসে প্রতিটি শিক্ষার্থী সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বিচারের প্রেরণা লাভ করুক।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন শহীদ জোনায়েদের সম্মানিত পিতা। মোনাজাতে দেশ, জাতি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের জন্য দোয়া করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দিন খান (খান জসিম), সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, ক্যারিয়ার উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সম্পাদক আনাস ইবনে মুনির, রাইসুল ইসলাম, ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

আরটি/এমআইএইচএস



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *