‘ঘুস.সাইট’ তৈরি করা সেই কিশোরের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের বৈঠক
‘ঘুস.সাইট’ নামের ওয়েবসাইট তৈরি করে ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আলোচনায় আসা কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে সিটি প্রশাসকের নিজ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে শাহেদের উদ্যোগ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং তার কাজকে এগিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও শাহেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
বৈঠক শেষে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন জাগো নিউজকে বলেন, ‘জেনারেশন জেডের (জেন-জি) অনেক ছেলেমেয়ে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করতে চায়। শাহেদের মধ্যে সেই স্পিড দেখেছি। ঘুস.সাইট নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা আমরা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাব। তার এই উদ্যোগ অনৈতিক দাবির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি সমঅধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।’
এ বিষয়ে শাহেদ শরীফ আহমেদ বলে, ‘ওয়েবসাইটে জমা হওয়া অভিযোগের ডেটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেশের কোন বিভাগ বা খাতে ঘুসের অভিযোগ বেশি, তা চিহ্নিত করতে চাই। এ কাজে সরকারকে সহযোগিতা করারও আগ্রহ রয়েছে।’
তবে একা উদ্যোগটি পরিচালনা করতে গিয়ে পড়াশোনায়ও প্রভাব পড়ছে বলে জানায় শাহেদ। তার ভাষ্য, সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি পেলে কাজের চাপ কিছুটা কমবে। একইসঙ্গে পড়াশোনার পাশাপাশি এই উদ্যোগ চালিয়ে নেওয়াও সহজ হবে।
আলাপকালে জানা যায়, প্রয়াত শিক্ষক মায়ের পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুস দাবির মুখে পড়েন শাহেদ ও তার পরিবারের সদস্যরা। নিজের পাসপোর্ট তৈরির সময়ও একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় এই কিশোর। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই ঘুস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে ২১ আগস্ট ‘ঘুস.সাইট’ চালু করে শাহেদ।
এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের নজরে আসে। শাহেদের মায়ের পেনশন সংক্রান্ত অনুলিপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। একইসঙ্গে অনিয়মের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়।
হোসাইন সুলভ/এসআর/জেআইএম


