বরের বাবার জন্য কনে দেখা কি জায়েজ?
প্রশ্ন: ইসলামে বিয়ের আগে বরের জন্য কনে দেখা জায়েজ বলে জানি। প্রশ্ন হলো, বরের বাবাও কি কনে দেখতে পারবেন? কনের জন্য বরের বাবার সামনে পর্দা রক্ষা না করে যাওয়া জায়েজ হবে?
উত্তর: কোনো পুরুষ যদি কোনো নারীকে বিয়ের করার ইচ্ছা করে, তাহলে ওই পুরুষের জন্য কনেকে দেখে নেওয়া শুধু জায়েজই নয়, সুন্নতও বটে। কনেও চাইলে বরকে দেখে নিতে পারে।
নবীজি (সা.) তার সাহাবিদের উৎসাহ দিতেন বিয়ের আগে কনেকে দেখে নিতে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত আল্লাহর রাসুল রাসুল (সা.) বলেন, আপনাদের কেউ যখন কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দেবেন, তখন সম্ভব হলে তার এমন কিছু বৈশিষ্ট্য দেখে নেবেন, যা আপনাকে বিয়েতে আগ্রহী করে তোলে। (সুনানে আবু দাউদ: ২০৮২)
মুগিরা বিন শোবা (রা.) বলেন, আমি এক নারীকে বিয়ের প্রস্তাব দিলাম। এটা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি তাকে দেখেছেন? আমি বললাম, না, দেখিনি। তখন তিনি বললেন, তাকে দেখে নিন। আপনার এই দেখা আপনাদের দাম্পত্য জীবনে প্রণয়-ভালোবাসা গভীর হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। (সুনানে তিরমিজি: ১০৮৭)
তবে এই বৈধতা শুধু হবু বরের জন্য অর্থাৎ যিনি বিয়ে করতে ইচ্ছুক তার জন্য কনেকে পর্দা/ হিজাবহীন অবস্থায় দেখা জায়েজ। বরের বাবা, দাদা, ভাই, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য গায়রে মাহরাম পুরুষদের জন্য কনেকে দেখা জায়েজ নয়। তাই তাদের সামনে পর্দা রক্ষা না করে যাওয়া জায়েজ হবে না।
বরের বাবা-দাদা কনেকে দেখতে পারবেন বিয়ের আকদ হয়ে যাওয়ার পর, বিয়ের আকদ হয়ে যাওয়ার পর তারা বৈবাহিক সূত্রে কনের মাহরাম হয়ে যাবেন।
পর্দা ইসলামের একটি ফরজ বিধান। নারীদের জন্য যেমন পর্দা জরুরি, পুরুষদের জন্যও পর্দা জরুরি। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে পুরুষদের নির্দেশ দিয়েছেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করতে এবং চরিত্রের হেফাজত করতে আর নারীদের নির্দেশ দিয়েছেন দৃষ্টি সংযত করার পাশাপাশি নিজেদের শারীরিক সৌন্দর্য ঢেকে রাখতে।
আল্লাহ তাআলা বলেন, মুমিন পুরুষদের বল, তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখবে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করবে। এটাই তাদের জন্য অধিক পবিত্র। নিশ্চয় তারা যা করে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবহিত। আর মুমিন নারীদের বল, যেন তারা তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যা সাধারণত প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য তারা প্রকাশ না করে। তারা যেন তাদের ওড়না দিয়ে বক্ষদেশকে আবৃত করে রাখে। তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজদের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাই এর ছেলে, বোনের ছেলে, আপন নারীগণ, তাদের ডান হাত যার মালিক হয়েছে, অধীনস্থ যৌনকামনামুক্ত পুরুষ অথবা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ বালক ছাড়া কারো কাছে নিজদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে। তারা যেন নিজদের গোপন সৌন্দর্য প্রকাশ করার জন্য সজোরে পদচারণা না করে। হে মুমিনগণ, তোমরা সকলেই আল্লাহর নিকট তাওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সুরা নুর: ৩০, ৩১)
আয়াতে পুরুষের প্রতি যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা থেকে বোঝা যায় পুরুষের জন্য নিজের চরিত্র হেফাজতের পাশাপাশি নিজের দৃষ্টির হেফাজত করা অর্থাৎ অন্যায় দৃষ্টিপাত থেকে বাঁচিয়ে রাখা ফরজ। গায়রে মাহরাম কোনো নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের প্রতি ইচ্ছাকৃত দৃষ্টিপাত করা, তাকিয়ে থাকা পুরুষের জন্য হারাম। ভুলক্রমে দৃষ্টি পড়ে গেলে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী সাথে সাথে দৃষ্টি নত করতে হবে। ভুলক্রমে দৃষ্টি পড়ে যাওয়ার পর দৃষ্টি না সরিয়ে দেখতে থাকা বা আবার তাকানো গুনাহের কাজ।
বুরায়দা ইবনে আল-হাসিব (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) আলীকে (রা.) বলেন, হে আলী! দৃষ্টির পর দৃষ্টি ফেলো না। অনিচ্ছাকৃত যে দৃষ্টি পড়ে এর জন্য তুমি ক্ষমা পাবে। কিন্তু পরবর্তী দৃষ্টির জন্য ক্ষমা পাবে না। (সুনানে আবু দাউদ: ১/২৯২)
ওএফএফ


