September 1, 2026

কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারবে না গভর্নিং বডি: হাইকোর্ট

0
tib-mtioh3q214e8wn7-20260901190729.jpg


শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির অনুমোদন ছাড়া গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এ সংক্রান্ত এক রিটের রুল খারিজ করে সম্প্রতি হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী ও বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীর গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে পেশায় পুনর্বহালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশের বিরুদ্ধে করা রিটের রুল খারিজ করেন হাইকোর্ট।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী কামরুজ্জামান। ওই শিক্ষকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আনিসুর রহমান খান ও সুলতান মাহমুদ বান্না।

২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভর্নিং বডির সভায় গচিহাটা কলেজের সহকারী অধ্যাপক আবুল মনসুরকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়, যা ওই বছরের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর দেখানো হয়। পরবর্তী সময়ে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত অনুমোদনের জন্য ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটিতে পাঠানো হলে ২০ এপ্রিলের সভায় তা নামঞ্জুর করে ওই শিক্ষককে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ পুনর্বহালের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, বোর্ডের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন গভর্নিং বডির সভাপতি আখতারুজ্জামান। এই রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল খারিজ করে রায় দেন হাইকোর্ট।

এই রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট বলেন, গভর্নিং বডি শিক্ষককে সরাসরি বরখাস্ত করতে পারে না, তারা কেবল প্রস্তাব দিতে পারে। বরখাস্ত কার্যকরের আগে আপিল ও সালিশ কমিটির মাধ্যমে বোর্ডের অনুমোদন প্রয়োজন। আর স্বীকৃত বেসরকারি কলেজের শিক্ষককে বরখাস্তের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে অনুসরণ বাধ্যতামূলক।

হাইকোর্ট রায়ে আরও বলেন, টেলিফোনে তদন্ত কমিটি গঠন বেআইনি। তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে যথাযথভাবে ডাকা গভর্নিং বডির সভায় আনুষ্ঠানিক রেজুলেশনের মাধ্যমে। গভর্নিং বডির সভাপতি বা অন্য কারও মৌখিক কিংবা টেলিফোনে নির্দেশ আনুষ্ঠানিক রেজুলেশনের বিকল্প হতে পারে না।

এই রায়ে হাইকোর্ট বলেন, গচিহাটা কলেজের গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষককে স্বপদে পুনর্বহাল এবং বকেয়া পাওনা বুঝিয়ে দিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটির সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ যথাযথ ও আইনসম্মত। ওই মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় শিক্ষক আবুল মনসুর অবসরের বয়সে পৌঁছে যাওয়ায় তাকে আগের পদে পুনর্বহালের সুযোগ নেই বলে রায়ে বলা হয়েছে। তবে, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর তারিখ পর্যন্ত তার বকেয়া বেতন, চাকরিসংক্রান্ত সুবিধা এবং প্রযোজ্য পেনশন সুবিধা পাওয়ার অধিকার রয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফএইচ/কেএসআর



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *