August 31, 2026

‘আমাদের ঢাকায় গিয়ে চাকরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়’

0
rajshahi1-20260830110638.jpg


শিক্ষা, ব্যবহারিক দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে আরও শক্তিশালী সংযোগ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর তরুণরা। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে সীমিত কর্মসংস্থান, কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগের অভাব, নতুন উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট এবং নিয়োগে ন্যায্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহীতে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত আঞ্চলিক যুব পরামর্শ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। সভায় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, ফ্রিল্যান্সার, তরুণ উদ্যোক্তা, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবক, যুব সংগঠক ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অনেক তরুণ ডিগ্রি বা প্রশিক্ষণ শেষ করলেও পর্যাপ্ত ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা ও ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান না। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের পরও রাজশাহীতে সেই দক্ষতা কাজে লাগানোর মতো কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। ফলে অনেককে ঢাকাসহ অন্যান্য শিল্পাঞ্চলে যেতে হচ্ছে।

রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ডিপ্লোমা শিক্ষার্থী ও যুবনেতা মোহাম্মদ শাকিল মন্ডল বলেন, ‘পর্যাপ্ত স্কিল নিয়ে বের হওয়ার পরও আমরা সুযোগের অভাবে এগুলো স্থানীয়ভাবে কাজে লাগাতে পারছি না। আমাদের ঢাকায় গিয়ে চাকরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়।’

সভায় দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, কতজন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বা কতটি সনদ দেওয়া হয়েছে, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশিক্ষণ নেওয়া যুবকেরা কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধিতে কতটা ভূমিকা রাখছে।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘আমরা হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নিতে পারি, অসংখ্য দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালাতে পারি, কিন্তু মূল প্রশ্ন হলো এগুলোর ফল কী হচ্ছে। সেই অভিজ্ঞতা কি তাকে উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানে নিয়ে গেল?’

তিনি বলেন, রাজশাহীর উন্নয়নকে শুধু বৃহৎ শিল্পায়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে কৃষি, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রেশম, হস্তশিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন ও সৃজনশীল শিল্পের মতো স্থানীয় সম্ভাবনাময় খাতে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহীকে সিঙ্গাপুর বা লন্ডন হতে হবে না। রাজশাহীকে আরও উন্নত রাজশাহী হতে হবে।’

সভায় তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন সংকট, নিয়োগে রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবির, নারীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের সীমাবদ্ধতা এবং প্রতিবন্ধী ও আদিবাসী তরুণদের সুযোগের অভাব নিয়েও আলোচনা হয়।

দ্য এশিয়া ফাউন্ডেশনের সহায়তায় পরিচালিত ‘ইউথ ইকোনমিক এঙ্গেজমেন্ট ইন পোস্ট-আপরাইজিং বাংলাদেশ: অপরচুনিটিজ, এন্ট্রি পয়েন্টস অ্যান্ড ইনস্টিটিউশনাল ব্যারিয়ার্স’ শীর্ষক গবেষণার অংশ হিসেবে এ পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

মনির হোসেন মাহিন/কেজে/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *