September 12, 2026

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বিশেষ জোর

0
1-mtxsfrrkylt3tev-20260912085527.jpg


মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তা, শ্রমিক, মালয়েশীয় কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার পেনাংয়ে দায়িত্বশীল ব্যবসা জোট (রেসপনসিবল বিজনেস অ্যালায়েন্স আরবিএ) আয়োজিত ‘প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়ন: সরবরাহ ব্যবস্থায় মানবাধিকার যাচাইয়ের উত্তম চর্চা বিনিময়’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার মোছাম্মৎ শাহানারা মনিকা।

আলোচনায় তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের মুখোমুখি হওয়া সংকটের চিত্র তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে নিয়োগের সময় সৃষ্ট ঋণের বোঝা, বেতন-ভাতা না পাওয়া, অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতা এবং দেশে ফেরত পাঠানোর পরও অব্যাহত বিভিন্ন সমস্যা।

শাহানারা মনিকা বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় শুধু নিয়োগকালীন পর্যায়ে নজর দিলেই হবে না; পুরো অভিবাসন চক্রজুড়েই মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকদের অভিযোগ দ্রুত সমাধান, ক্ষতিপূরণ বা প্রতিকার নিশ্চিত করা, কল্যাণ সহায়তা দেওয়া এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে দেশে ফেরার সুযোগ তৈরিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয় জরুরি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হাইকমিশন শ্রমিক, নিয়োগকর্তা, মালয়েশিয়ার সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং অন্যান্য অংশীজনের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি, প্রয়োজনীয় প্রতিকার, কল্যাণ সহায়তা এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হাইকমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বর্তমান নিয়োগচক্র শুরুর পর থেকে বাংলাদেশি শ্রমিকদের কাছ থেকে বেতন, ভিসা নবায়নসহ বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রায় ৪৫০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩৩০টিরও বেশি অভিযোগ শ্রমিক ও নিয়োগকর্তার মধ্যে মধ্যস্থতা এবং মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অন্যান্য অংশীজনের সহযোগিতায় সমাধান করা সম্ভব হয়েছে।

আলোচনায় অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষায় মানবাধিকার যাচাই বা ‘হিউম্যান রাইটস ডিউ ডিলিজেন্স’-এর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। বিশেষ করে শ্রমিক নিয়োগের শুরু থেকে কর্মসংস্থান, বেতন-ভাতা, বৈধ অভিবাসন নথি, কর্মপরিবেশ এবং দেশে ফেরার পরবর্তী সময় পর্যন্ত সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও প্রতিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হলে শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। নিয়োগকর্তা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শ্রমিকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

পেনাংয়ের এ আলোচনায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেল।

এমআরএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *