September 8, 2026

বেনজীরকে ফেরাতে ৪ দিনের মধ্যেই অনুরোধ করা হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
benjir2-mtsyxcapp002dqs-20260908235800.jpg


সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গ্রেফতারের চারদিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয় বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিলম্ব করা হয়নি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কার্যপ্রণালি-বিধির ১৪৭ বিধিতে সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমের উত্থাপিত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি রয়েছে। ২০২৬ সালের ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিবি ঢাকাকে জানায়, বেনজীর আহমেদকে সেখানে গ্রেফতার করা হয়েছে। আমিরাতের আইনে গ্রেফতারের পর ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সরকার নির্ধারিত ৩০ দিনের অপেক্ষা করেনি। গ্রেফতারের মাত্র চারদিনের মধ্যে ২০২৬ সালের ১৬ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়। একই দিনে এর একটি অনুলিপি এনসিবি আবুধাবিতেও পাঠানো হয়। ফলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে—এমন অভিযোগ সঠিক নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ইউএইর মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। এ কারণে ইউএইর অভ্যন্তরীণ আইন এবং পারস্পরিকতার নীতির ভিত্তিতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘৮ জুলাই ইউএইর বিচার মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ অনুরোধের বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য ও নথি চেয়েছে। এর মধ্যে পারস্পরিকতার নিশ্চয়তা, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ, মামলার আইনি সীমাবদ্ধতা-সংক্রান্ত তথ্য এবং সত্যায়িত গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন নথি ছিল। এসবের অতিরিক্ত সহায়ক নথি ৪ আগস্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে পাঠানো হয়েছে। এরপর ২২ আগস্ট ইউএইর কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ আরও কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি ব্যাখ্যা এবং মামলা পরিচালনার সময়সীমা ও সাজা কার্যকরের মেয়াদ শেষ হওয়া-সংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট আইনের পূর্ণাঙ্গ পাঠ চেয়েছে। এ বিষয়ে ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জবাব দেওয়ার সময়সীমা রয়েছে। আইন ও বিচার বিভাগের মতামত ১ সেপ্টেম্বর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের মতামত ২ সেপ্টেম্বর পাওয়া গেছে। এখন সমন্বিত জবাব প্রস্তুত করে সত্যায়ন ও আরবি অনুবাদের কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তা পাঠানো হবে।’

বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনজীবী নিয়োগের তথ্য জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘৩০ জুলাই বাংলাদেশ দূতাবাস আবুধাবির মাধ্যমে হামদান আল কাবি অ্যাডভোকেটস অ্যান্ড লিগ্যাল কনসালটেন্সিকে প্রত্যর্পণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি সহায়তার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।’

সেন্ট লুসিয়ায় বেনজীরের যাওয়ার খবরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে সেন্ট লুসিয়ায় চলে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্র বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই শুধু গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তার অবস্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা সমীচীন হবে না। বেনজীরের অবস্থান অন্য কোনো দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন, চুক্তি বা পারস্পরিকতার নীতি এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর আওতায় তাকে গ্রেফতার, প্রত্যর্পণ বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বেনজীরের বিরুদ্ধে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট জালিয়াতির অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পৃথক মামলা রয়েছে। এ মামলায় ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও আসামি। বিষয়টি তদন্তাধীন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিদেশে থাকা বেনজীর ও তার পরিবারের সম্পদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স (এমএলএ) রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আইন, আদালতের আদেশ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী সম্পদ অবরুদ্ধ, জব্দ, বাজেয়াপ্ত বা দেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জামিন পাওয়া মানেই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যাওয়া নয়। প্রত্যর্পণ একটি আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়া, যার বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে সময় প্রয়োজন। তাই জামিনের ঘটনাকে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা বা ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।’

সরকার নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠিয়েছে এবং ইউএই কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত নথি ও আইনি ব্যাখ্যাও দেওয়া হচ্ছে। বেনজীরকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ও কূটনৈতিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে, যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এমওএস/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *