September 8, 2026

শাহজালালের নিরাপত্তায় ২৫ নতুন বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্র

0
og_1788795457_6a9eda41a06e2.jpeg


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে নতুন ২৫টি বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্র সংযোজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এসব যন্ত্র পরিচালনার জন্য বিমানবন্দর নিরাপত্তা শাখার ৪৪ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বেবিচক।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন সংযোজিত এনইউসিটিইসিএইচ টিআর২০০০ডিসি মডেলের বিস্ফোরক শনাক্তকারী যন্ত্র পরিচালনা বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। যন্ত্রটির মূল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞরা এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ৪৪ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে যন্ত্রটির সঠিক ব্যবহার, নমুনা সংগ্রহ, শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং নিরাপদ পরিচালনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতা দেওয়া হয়।

এনইউসিটিইসিএইচ টিআর২০০০ডিসি একটি আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকারী প্রযুক্তি। এটি অত্যন্ত সামান্য পরিমাণে অবশিষ্ট থাকা বিস্ফোরক ও অবৈধ মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্ত করতে সক্ষম। যন্ত্রটি আয়ন চলনশীলতা বর্ণালিবীক্ষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এতে অ-তেজস্ক্রিয় আয়নীকরণ উৎস ব্যবহার করা হয়েছে।

ফলে যাত্রীদের ব্যাগেজ, কার্গো এবং বিভিন্ন পৃষ্ঠে থাকা অতি ক্ষুদ্র মাত্রার সন্দেহজনক পদার্থ দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশির কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিও দ্রুত চিহ্নিত করা যাবে।

বেবিচক বলছে, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবলের যথাযথ প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে প্রশিক্ষণ, ব্যবহারিক অনুশীলন ও দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা নির্ধারিত পদ্ধতি ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে এসব যন্ত্র কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারবেন।

এদিকে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার নিরীক্ষাকে সামনে রেখে শাহজালাল বিমানবন্দরে আধুনিক বিস্ফোরক শনাক্তকারী প্রযুক্তির সংযোজন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সক্ষমতা ও প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছে বেবিচক।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পর পর্যায়ক্রমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম; ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, সিলেট এবং কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও সংশ্লিষ্ট জনবলের জন্য একই ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে।

এর মাধ্যমে দেশের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে আধুনিক বিস্ফোরক ও মাদক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমন্বিত ও শক্তিশালী বিমানবন্দর নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও এগিয়ে যাবে।

বেবিচক জানায়, দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

এমএমএ/এমআইএইচএস/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *