September 7, 2026

সাত জনের গণছাঁটাই কেন? পিসিবির ‘আসল পরিকল্পনা’ ফাঁস করলেন শোয়েব আখতার

0
og_1788796164_6a9edd0439eaa.jpeg


পাকিস্তান ক্রিকেটে বিশাল পরিবর্তনের ঝড়। একটি টেস্ট সিরিজ চলাকালীনই দলে বড় ধরনের রদবদল, সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে অন্তর্ভুক্ত করা এবং একের পর এক সিনিয়র ক্রিকেটারকে ছাঁটাই- সব মিলিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে ক্রিকেটবিশ্বে।

তবে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে অন্যভাবে দেখছেন পাকিস্তানের সাবেক তারকা পেসার শোয়েব আখতার। তার দাবি, পিসিবির এই ব্যাপক রদবদল কোনো হঠাৎ সিদ্ধান্ত নয়; বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের পুরো দলটিকেই ধীরে ধীরে সরিয়ে তরুণদের নিয়ে নতুন দল গড়ার পরিকল্পনার অংশ।

আর এই কারণেই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের মাঝপথে এত বড় পরিবর্তন দেখে তিনি মোটেও অবাক হননি।

‘পুরো দলটাই বদলাতে চায় পিসিবি’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের টানা পরাজয়ের পরই দলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে পিসিবি। তৃতীয় ও শেষ টেস্টের আগে স্কোয়াডে যোগ করা হয় সাতজন নতুন ক্রিকেটারকে।

এমন সিদ্ধান্তে সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ক্রিকেট বিশ্লেষক- অনেকেই পিসিবির সমালোচনা করেছেন। তাদের প্রশ্ন, একটি সিরিজ চলাকালীন এত বড় পরিবর্তন কীভাবে দলের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে? কিন্তু শোয়েব আখতার বলছেন, পিসিবির পরিকল্পনাটা আরও বড়।

‘পিসিবি নিজেই এই খেলোয়াড়দের নিয়ে খুব হতাশ ছিল। তারা এই পাকিস্তান দল থেকে আর কিছু প্রত্যাশা করে না। পরিকল্পনাই হলো এই দলটিকে সরিয়ে তরুণ ও নতুন ক্রিকেটারদের দিয়ে প্রতিস্থাপন করা,’ বলেন শোয়েব। তার মতে, পাকিস্তান এখন ভবিষ্যতের দিকে তাকাচ্ছে এবং জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রজন্ম প্রস্তুত করার কাজ শুরু করেছে।

তিন পেসারকে বাঁচাতে চান শোয়েব

পুরো দল পরিবর্তনের পরিকল্পনার কথা বললেও বর্তমান স্কোয়াডের মাত্র তিনজন ক্রিকেটারকে ভবিষ্যতের জন্য ধরে রাখতে চান শোয়েব আখতার। তারা হলেন- শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফ। শোয়েবের মতে, এই তিন পেসারের সামনে এখনো অনেক ক্রিকেট বাকি। তাই পরিবর্তনের এই সময়ে তাদের ক্যারিয়ার রক্ষা করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘এই পরিবর্তনের সময়ে আমি শুধু শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিস রউফের ক্যারিয়ার বাঁচাতে চাই। এই ছেলেদের সামনে অনেক ক্রিকেট পড়ে আছে।’ শোয়েবের এই বক্তব্যের সবচেয়ে বড় চমক অবশ্য অন্য জায়গায়।

পাকিস্তানের অন্যতম বড় তারকা ও সাবেক অধিনায়ক বাবর আজমের নাম এই তিনজনের তালিকায় নেই। অর্থাৎ শোয়েব আখতারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান দল থেকে ভবিষ্যতের জন্য যে ক্রিকেটারদের ধরে রাখার কথা তিনি বলছেন, সেখানে বাবরকে রাখেননি তিনি।

বাবরকে পাকিস্তানের ক্রিকেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হিসেবে বিবেচনা করা হলেও শোয়েবের বক্তব্যে স্পষ্ট- পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ায় তিনি কেবল পাকিস্তানের তিন পেসারকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় নিরাপদ দেখতে চান।

পিসিবি কর্মকর্তার সঙ্গে কী কথা হয়েছিল শোয়েবের?

শোয়েব আখতার জানিয়েছেন, দ্বিতীয় টেস্টের পর পাকিস্তান দলে এত বড় পরিবর্তন কেন আনা হলো, সেটি বোঝার জন্য তিনি পিসিবির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছিলেন। নতুন করে যারা দলে আসছেন, তাদের কাছ থেকে পিসিবি কী প্রত্যাশা করছে- এমন প্রশ্নও করেছিলেন তিনি। কিন্তু কর্মকর্তার উত্তর নাকি ছিল বেশ চমকপ্রদ, ‘কিছুই না।’

অর্থাৎ, নতুন ক্রিকেটারদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ফল বা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের প্রত্যাশা করছে না পিসিবি। বরং তাদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। শোয়েবের দাবি, ওই কর্মকর্তা তাকে বলেছেন, পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের নিয়েই মূল প্রত্যাশা- যাদের বড় মঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।

‘পাকিস্তান ক্রিকেট ভেন্টিলেটরে’

শোয়েবের সঙ্গে ওই পিসিবি কর্মকর্তার কথোপকথনে পাকিস্তান ক্রিকেটের বর্তমান পরিস্থিতির একটি কঠিন চিত্রও উঠে এসেছে। শোয়েবের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মকর্তা পাকিস্তান ক্রিকেটকে ‘ভেন্টিলেটরে’ থাকা অবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ, বর্তমান পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে তা থেকে বের হতে রাতারাতি কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়।

নতুন প্রকল্পের ফল পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলেও ধারণা দিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। শোয়েবের বক্তব্য অনুযায়ী, পিসিবি জানে যে নতুন প্রজন্মকে তৈরি করে ফল পাওয়ার জন্য সময় প্রয়োজন।

আইএইচএস/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *