September 2, 2026

৫৫ বছরের রেকর্ড বিদ্যুৎ ঘাটতি, দায় ‘ভুল নীতি’ ও বৈশ্বিক সংকট

0
6a9813325f4e217883512826a9813325f4e6.jpg



দেশে সাম্প্রতিক সময়ের নজিরবিহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের পেছনে গত দেড় যুগের ‘ভুল নীতি’ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতাকে দায়ী করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়, যা গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কারিগরি সমস্যাগুলো সমাধান এবং সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ফলে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে।

তিনি বলেন, দেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। কিন্তু দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় সব গ্যাস সরবরাহ করলে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হবে। ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।

বিদ্যুৎ খাতের কারিগরি সংকট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটে মোট ৬১৬ মেগাওয়াট উৎপাদন বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি আদানির সঙ্গে আগের চুক্তি অনুযায়ী ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ এবং রাতে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, গত ২১ জুলাই আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত দুটি এফএসআরইউর (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট) একটিতে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। পরে ১৫ আগস্ট সেটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রায় ৮৮ শতাংশ স্বাভাবিক হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপনের চুক্তি বাতিল না হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো। তবে বর্তমান সরকার শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের চাহিদা পূরণে দ্রুত নতুন এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ২০২৮ সালের মধ্যে এটি চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও সর্বোচ্চ সক্ষমতায় চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, এসব কেন্দ্র থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব। এরই মধ্যে প্রায় ৩ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

তবে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পুঞ্জীভূত বকেয়া প্রায় ৪৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সংকট মোকাবিলায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এই অর্থ দ্রুত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওনা পরিশোধে ব্যবহার করা হচ্ছে।

মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ বা রুফটপ সোলারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আগামী গ্রীষ্ম ও সেচ মৌসুমকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে যারা রুফটপ সোলার স্থাপন করবেন, তারা উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নির্ধারিত দরে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে সোলার প্যানেল, ইনভার্টার, ব্যাটারি ও ভোল্টেজ রেগুলেটরসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক-কর সুবিধা দেওয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। তার আশা, এসব পদক্ষেপের ফলে আগামী গ্রীষ্ম থেকেই বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক সুফল পাওয়া যাবে।

গত দেড় দশকের বিদ্যুৎ নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সময়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। পাশাপাশি ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার সক্ষমতা প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ানো হয়নি। নির্দিষ্ট একটি ভৌগোলিক অঞ্চলের ওপর জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকেও বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, সরকার এখন জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে জনগণের সাময়িক দুর্ভোগের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দ্রুতই এই সংকট কেটে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আমার বাঙলা/ রাব্বি



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *