September 4, 2026

সেই কলেজশিক্ষকের বেতন বন্ধ, অধ্যক্ষকে বরখাস্তের সুপারিশ

0
rongpur-2-20260725112149.jpg


কারাগারে থেকেও শিক্ষা ছুটির নামে বেতন উত্তোলনের ঘটনায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মীরবাগ ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বেতন সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে অবৈধভাবে পাওয়া বেতন ফেরতের জন্য আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।
 
ওই কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধিকে অবৈধ বলে মত এবং তাকে চূড়ান্ত বরখাস্তের সুপারিশও করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
 
৩০ আগস্ট মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ ও উপপরিচালক (কলেজ) কামরুজ্জামান পাইকার সই করা তদন্ত প্রতিবেদনে বিভিন্ন মতামতসহ সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
 
এর আগে গত ১৯ আগস্ট মীরবাগ ডিগ্রি কলেজ পরিদর্শন ও অভিযোগের তদন্ত করেন ওই দুই কর্মকর্তা।
 
গত ২৫ জুলাই ‌‘কারাগারে থেকেও শিক্ষা ছুটির নামে বেতন পেলেন কলেজশিক্ষক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তোলপাড় শুরু হয়। পরে তদন্ত শুরু করে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।
 
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের ৩০ নভেম্বর চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র সাতদিন আগে আবেদন করে অধ্যক্ষ রেগুলেশনের ১৫(ক)(৪) অনুচ্ছেদের বাধ্যতামূলক তিন মাসের সময়সীমা ভঙ্গ করেছেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মেয়াদ বৃদ্ধি অনুমোদন করলেও চাকরিকালীন প্রমাণিত অনিয়মের কারণে উক্ত বর্ধিত মেয়াদ বাতিলযোগ্য।
 
প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বিষয়ে বলা হয়েছে, রেগুলেশনের ২৮ নম্বর অনুচ্ছেদের ন্যূনতম শর্ত (গভর্নিং বডির লিখিত অনুমোদন, ৮ বছরের লিখিত চুক্তি) পূরণ না হওয়ায় ছুটি অননুমোদিত। ফৌজদারি সাজাপ্রাপ্তি ও কারাবন্দি অবস্থায় বেতন উত্তোলন অনুচ্ছেদ ১৭ অনুযায়ী সরাসরি লঙ্ঘন এবং স্বতন্ত্রভাবে বরখাস্তযোগ্য।

 

 
‘ফলে অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যর্থতা, সময়সীমা লঙ্ঘন ও অনিয়মের দায়ে রেগুলেশনের অনুচ্ছেদ ১৭-এর নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অনুসরণপূর্বক অবিলম্বে ‘চূড়ান্ত বরখাস্ত’ করে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হলো।’
 
‘সেইসঙ্গে প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে রেগুলেশন ১৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণ করে অবিলম্বে গভর্নিং বডি কর্তৃক পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন, ন্যূনতম দুইবার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগসহ কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ইফটিতে বেআইনিভাবে উত্তোলিত বেতন সরকারি কোষাগারে চালানের মাধ্যমে ফেরত আনার আইনি ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হলো।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কামরুজ্জামান পাইকার বলেন, ‘ওই কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম মো. জয়নুল আবেদীনের চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং প্রভাষক মোহাম্মদ আলী বাবুর কারাগারে থেকে শিক্ষা ছুটির নামে বেতন উত্তোলন অবৈধ, তা তদন্তে পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় মতামতসহ সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে। অধিদপ্তর থেকে নির্দেশনা পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
 
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মো. গোলাম মাজেদ বলেন, ‘শুধু মীরবাগ ডিগ্রি কলেজ নয়, যেকোনো কলেজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোহাম্মদ আলী বাবু কাউনিয়া উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের গধাদর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এবং ওই এলাকার মীরবাগ কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক। হজে লোক পাঠানোর কথা বলে ও চাকরি দেওয়ার নামে অনেকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। হজে যেতে না পারা এবং চাকরি না পাওয়া এমন একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। অর্থ আত্মসাত ও প্রতারণার ঘটনায় মোহাম্মদ আলী বাবুর বিরুদ্ধে নীলফামারী থানায় দুটি ও রংপুরে আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে।
 
গত ১৫ মে দিনগত রাতে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আসামি বাবুর অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে রাতেই কাউনিয়া থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রংপুর মহানগর এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে বাবুকে গ্রেফতার করে। পরের দিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দুই মাস কারাগারে বন্দি থাকার পর তিনি জামিনে বেরিয়ে আসেন।
 
কারাগারে বন্দি থাকলেও কলেজ থেকে এমপিও শিটে তার নাম তালিকাভুক্ত করা হয়। গত মে, জুন ও জুলাই মাসের বেতনও দেওয়া হয় তাকে। তবে উপস্থিতি রেজিস্টারে বাবুর নামের জায়গায় ১০ মে থেকে শিক্ষা ছুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 
 
জিতু কবীর/এসআর

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *