‘শত্রুতা করে’ পুুকুরে বিষ, মরে একে একে ভেসে উঠলো ১৬ হাজার মাছ
এক একর জমির পুকুরে পাঙাশ, রুই ও তেলাপিয়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় সাড়ে ১৬ হাজার মাছ চাষ করেছিলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মৎস্যচাষি বাহরাম বাদশাহ। শত্রুতা করে সেই পুকুরে বিষ ঢেলে পুরো মাছই নিধন করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার প্রায় ১২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানান শ্রীপুরের মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী গ্রামের জগদীশ মোড় এলাকার মৎস্যচাষি বাহারম বাদশাহ।
বাহরাম বাদশাহ মাওনা ইউনিয়নের সিংগারদিঘী মেডিকেল মোড় এলাকার আফাজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি জগদীশ মোড় এলাকার মো. আমিনের কাছ থেকে পুকুর ভাড়া নিয়ে মাছ চাষ করেছিলেন।
বাহারম বাদশাহর ভাষ্যমতে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পুকুরে থাকা মাছগুলোকে খাবার দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে পুকুরের মালিক আমিন পুকুরে মাছ মরে ভেসে থাকার খবর জানান। পুকুরে গ্যাস বা অক্সিজেন সংকট হয়েছে ভেবে অক্সিজেন বাড়ানো ও গ্যাসের ওষুধ এনে পুকুরে প্রয়োগ করেও কোনো ফল পাননি। পুকুরে যদি গ্যাস ও অক্সিজেনজনিত সমস্যা থাকতো, তাহলে সমস্যার সমাধান হতো। এরই মধ্যে ৫-৭ হাজার মাছ মারা যায়।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুকুরের পানিতে থাকা প্রায় সব মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করে। আগে তার পুকুরে তেলাপিয়া, রুইসহ প্রায় তিন হাজার মাছ ছিল। এরই মাঝে তিনি সাড়ে ১৩ হাজার মাছ পাঙাশ মাছ ছাড়েন।
এরইমধ্যে প্রতিটি পাঙাশ ৭০০-৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ওজন হয়ে উঠেছিল। দুইমাস পর মাছগুলো প্রায় ৩০ লাখ টাকায় বিক্রির আশা ছিল বাহরামের। এ পর্যন্ত তার ১২ লাখ টাকার খরচ হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাছচাষি বাহারম বাদশাহর অভিযোগ, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে যে কেউ তার মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করেছেন। এ ঘটনায় তিনি শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন।
এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ অবহিত করেননি। আমাদের জানালে মাছের মুত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যেতো।
শিহাব খান/এসআর

