September 4, 2026

সনাতনীদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা: অর্থমন্ত্রী

0
jagonewsimage-6-mtn02msj7xca2o7-20260904194241.jpg


সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য নিজের দরজা সবসময় খোলা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সামাজিকভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুণগত পরিবর্তন এসেছে। সবকিছু পুরোপুরি পরিবর্তন না হলেও এ পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত থাকবে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের জেএম সেন হল প্রাঙ্গণে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে ধর্মমহাসম্মেলন ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা ধর্মের জন্য নয়, বরং সব বাংলাদেশির জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেন আমির খসরু। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য ক্ষমতায় আসেনি। বাংলাদেশের সব গোষ্ঠীর ভোটে বিপুল জয় নিয়ে এ সরকার ক্ষমতায় এসেছে। সনাতনী, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃগোষ্ঠী সবাই ভোট দিয়েছেন। এ সরকার গণতান্ত্রিক সরকার, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার।

বিগত সময়ে সমাজে বিভেদ তৈরি করা হয়েছিল জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সমাজে যে অবক্ষয় হয়েছে, বিগত দিনে একটি সরকার সমাজে যে বিভেদের সৃষ্টি করেছে, তা আগামীকাল সকালে সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা বলছি না। তবে আমরা যে পথে চলছি, পথটা ঠিক আছে কি না সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। পথ ঠিক থাকলে আমরা সেই পথে এগিয়ে যেতে পারবো।’

সরকার সব গোষ্ঠীর কথা বিবেচনায় রেখে নীতিমালা প্রণয়ন করছে দাবি করে তিনি বলেন, মসজিদে যে অনুদান দেওয়া হবে, মন্দিরেও একই অনুদান দেওয়া হবে। মসজিদের ইমামকে যা দেওয়া হয়েছে, মন্দিরের পুরোহিতকেও তা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে আগে এমনটি হয়নি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে আমির খসরু বলেন, ‘আপনারা আমাদের কাছে আসবেন। কারও মাধ্যম লাগবে না, সরাসরি আসবেন। সনাতনীদের জন্য আমার দরজা সবসময় খোলা। আপনাদের যেসব সমস্যা আছে, সেগুলো আমরা চিহ্নিত করবো এবং সমাধানে কাজ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে আপনারা নিজেদের দুর্বল মনে করবেন না। নিজেদের অন্যদের থেকে পৃথক মনে করবেন না। আমরা এমন দেশ গড়তে চাই, যেখানে সব মানুষ নিজ নিজ উৎসব পালন করবে, নিজ নিজ অধিকার ভোগ করবে এবং সমঅধিকার পাবে। কারও জন্য বিশেষ কিছু করা হবে না, আবার কোনো গোষ্ঠীকে ছোট করেও দেখা হবে না।’

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে কোনো বঞ্চনা থাকবে না।’

বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বড় বাজেট প্রণয়ন করার পর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, এত বড় বাজেট কেন এবং এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব কি না। তবে সরকারের লক্ষ্য সবার জন্য প্রণীত বাজেট সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন করা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি চন্দন তালুকদার। মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শ্রীশ্রী কৈবল্যধামের মোহন্ত মহারাজ কালীপদ ভট্টাচার্য। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আর কে দাশ রুপু। সঞ্চালনা করেন কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ।

অনুষ্ঠানে সংবর্ধিত অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মাহবুবের রহমান শামীম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার হরিশ কুমার ও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর।

ধর্মীয় আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট ধর্মতত্ত্ববিদ অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী, অধ্যাপক রুপন ধর ও উত্তম কুমার চক্রবর্তী। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পরে অতিথিদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। এর আগে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে টেলিভিশন ও বেতারের শিল্পীরা গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

জন্মাষ্টমী মহোৎসব উপলক্ষে শনি ও রোববার দুই দিনব্যাপী ষোড়শপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে জেএম সেন হলের আশপাশে বিভিন্ন লোকজ সামগ্রীর দোকানও বসেছে।

এমআরএএইচ/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *