শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে হারালো অনূর্ধ্ব-১৯ দল
শেষ ওভারে প্রয়োজন ৬ রান, হাতে ১ উইকেট। প্রথম ২ বলে ১ রান এলেও, তৃতীয় বলে রাহিন আহমেদের পায়ে বল লাগতেই আবেদনে ফেটে পড়ে পুরো দল। আম্পায়ার আঙুল তুলতেই শুরু হয় উদযাপন। বড় ভাইদের (অনূর্ধ্ব-২৩ দল) হারিয়ে দিয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
রোববার মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গেম ডেভেলপমেন্ট ট্রফির (জিডি ট্রফি) দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলকে ৪ রানে হারিয়েছে অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
আগে ব্যাটিং করে ৪৮.৪ ওভারে ২২৬ রানে অলআউট হয় অনূর্ধ্ব-১৯। জবাবে ৩ বল বাকি থাকতে ২২২ রানে গুটিয়ে যায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। এ নিয়ে টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচ জিতলো অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এর আগে শুক্রবার উদ্বোধনী ম্যাচে অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে ২৪৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
রান তাড়া করতে নেমে খালিদ হাসান এবং জাওয়াদ আবরারের উদ্বোধনী জুটিতে ভালো শুরু পায় অনূর্ধ্ব-২৩ দল। অষ্টম ওভারে ২৮ বলে ৩৪ রান করে খালিদ ফিরলে ভাঙে তাদের ৫২ রানের জুটি।
এরপর তিন নম্বরে নামা আজিজুল হাকিম তামিমকে নিয়ে আবার জুটি বাধেন আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরার। তবে দু’জনেই সেট হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। দলীয় ৮০ রানে ফেরার আগে তিন চার ও এক ছক্কায় ৩০ বলে ২৬ রান করেন আবরার। দলীয় ১১২ রানে ফেরেন তামিম। এই বাঁ-হাতি ব্যাটারের ব্যাট থেকে আসে ২ চারে ৪৫ বলে ২৮ রান।
২৬তম ওভারের প্রথম বলে ফেরা আব্দুল্লাহ করেন মাত্র ৪ রানে। পরের ওভারের প্রথম বলে দলকে বিপদে ফেলে ড্রেসিংরুমের পথ ধরেন অধিনায়ক কালাম সিদ্দিকী অ্যালেন। ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪৯ বলে ৩২ রান করেন তিনি।
এরপর ইনিংসের বাকি সময়ে রিজান হোসেন একাই লড়াই করেছেন। তবে তাকে আহরার আমিন পিয়ান ছাড়া কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। ২৪ বলে ২৫ রান করে পিয়ান ফিরলে ভাঙে তাদের ৪১ রানের জুটি। দলীয় ২১২ রানে শেষ ভরসা রিজানও বিদায় নেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৪৪ রান। ৭৫ বলের ইনিংসে ২ চার ও ১ ছকা হাঁকান তিনি।
শেষ দিকে মাহফুজুর রহমান রাব্বি চেষ্টা চালান, তবে সেটা শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছে। ২৬ বলে ১৬ রান করেন তিনি। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৬ রান, হাতে ছিল ১ উইকেট। প্রথম বলে রান আসেনি, পরের বলে আসে ১ রান, তৃতীয় বলেই উইকেট হারিয়ে অলআউট হয় ২৩ দল।
অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন আবদুর রহিম। ২টি করে উইকেট তোলেন আল রাফি এবং তাফিউল আলম তামিম। ১টি করে উইকেট শিকার করেছেন এসকে জারিফ সিয়াম এবং রবিউল হাসান অনিক।
এর আগে ব্যাটিং করতে নেমে অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে ভালো শুরু এনে দেন দুই ওপেনার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুহি এবং জারিফ সিয়াম। জারিফ ২৩ বলে ১৯ রান করে বিদায় নেন। তিনে নামা আদ্রিতোও ফিরেছেন একই ওভারে।
এক প্রান্ত ধরে খেলতে থাকা মুহি ফিফটির আগেই কাটা পড়েন। ৪৬ বলে ৪০ রানের ইনিংসে ৪ চার ও ২ ছকা হাঁকান তিনি। চারে নেমে আহসান আল মুমিন ৫৬ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন।
এরপর সবাই সেট হলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি কেউ। ফারহান সাদিক ২৬ বলে ২৯ রান করেছেন। আল রাফি ১৫ বভলে ১২ রান করেছেন। তবে একপ্রান্ত ঠিকই আগলে ছিলেন রবিউল হাসান অনিক। তার ব্যাটেই ২০০ পার করে অনূর্ধ্ব-১৯ দল। ৮২ বলে ৬৫ রান করে শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন অনিক। এই সময়ে ৫ চার ও ১ ছক্কা হাঁকান তিনি।
অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ৩ উইকেট নেন স্পিনার শেখ পারভেজ জীবন। ২টি করে উইকেট নেন আজিজুল হাকিম এবং আহরার আমিন পিয়ান।
এসকেডি/আইএইচএস/
