September 4, 2026

শরীর চুলকে মাসে আয় ১৮ লাখ টাকা!

0
shuhan-mtl3fcsx81ylj17-20260903114249.jpg


শরীরের চুলকানি মেটাতে অন্যের সাহায্য নেওয়া। আর সেই সেবা দিয়ে মাসে আয় প্রায় ১৮ লাখ টাকা। সম্প্রতি চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর শেনঝেনে এমনই এক ব্যতিক্রমী ব্যবসা শুরু করেছেন ঝাং শিয়াওচিয়াও।

৩২ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তার বর্তমানে দুটি দোকান রয়েছে। দুই দোকান মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ ইউয়ান আয় হচ্ছে তার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮ লাখ টাকা।

কেমন এই ‘চুলকানি সেবা’

ঝাংয়ের প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড নাম ‘সুমা’। সেখানে কর্মীরা বিশেষভাবে তৈরি নকশা করা লম্বা নখ ব্যবহার করেন।

গ্রাহকেরা ম্যাসাজের মতো করে বিছানায় উপুড় হয়ে শুয়ে থাকেন। এরপর কর্মীরা শরীরের বিভিন্ন অংশ আলতোভাবে চুলকে দেন।

কোনো কোনো ক্ষেত্রে গ্রাহকের নির্দিষ্ট চুলকানির জায়গাতেও সেবা দেওয়া হয়।

প্রতি ঘণ্টার জন্য নেওয়া হয় ৩০০ ইউয়ান বা প্রায় ৫ হাজার ৪০০০ টাকা।

উদ্যোক্তার দাবি, এই সেবা মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুমের মান ভালো করতে দারুণ সহায়ক।

‘ম্যাসাজের চেয়েও বেশি আরাম’

ঝাং শিয়াওচিয়াওয়ের মতে, চীনের বড় শহরগুলোতে মানুষের মানসিক চাপ অনেক বেশি। এ কারণে এ ধরনের সেবার চাহিদাও রয়েছে।

তিনি বলেন, চীনে এ ধরনের সেবার কোনো নজির না থাকায় তাকে নিজেকেই বিভিন্ন কৌশল নিয়ে গবেষণা করতে হয়েছে।

দুটি দোকানে পুরুষ ও নারী—দুই ধরনের গ্রাহকই আসেন। তবে তাদের প্রায় ৭০ শতাংশই পুরুষ।

ঝাংয়ের দাবি, কিছু গ্রাহক বলেছেন তাদের কাছে এই সেবা ম্যাসাজের চেয়েও বেশি আরামদায়ক। ফলে নিয়মিত গ্রাহকের সংখ্যাও বাড়ছে।

কখনো কখনো শরীর চুলকানোর সময় গ্রাহকের হাসিও পেয়ে যায়।

বাবার কাছ থেকে পাওয়া স্মৃতি

এই অদ্ভুত ব্যবসার ধারণা ঝাংয়ের মাথায় আসে একটি ভিডিও দেখে।

গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছোট ভিডিও দেখার সময় তিনি এমন একটি ভিডিও দেখেন। সেখানে এক নারী তার স্বামীর চুলকানি মেটাতে শরীর চুলকে দিচ্ছিলেন।

ভিডিওটির নিচে অনেকেই মন্তব্য করেন, তারা এমন সেবার জন্য টাকা দিতে রাজি। এতেই ঝাংয়ের মাথায় ব্যবসার ধারণা আসে।

এর সঙ্গে জড়িয়ে ছিল তার শৈশবের একটি স্মৃতিও।

ছোটবেলায় বাবা প্রায়ই তার পিঠ চুলকে দিতেন। এতে তিনি স্বস্তি পেতেন এবং সহজে ঘুমিয়ে পড়তেন।

সেই স্মৃতিই তাকে চুলকানি সেবার দোকান খোলার অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রথম দোকান মে মাসে, দ্বিতীয়টি জুনে

শেনঝেনের বাওআন জেলায় চলতি বছরের মে মাসের শুরুতে প্রথম দোকানটি খোলেন ঝাং। এক মাস পর জুনে ফুতিয়ান জেলায় দ্বিতীয় দোকান খোলেন তিনি।

ঝাংয়ের দাবি, দুটি প্রতিষ্ঠানই এখন তাদের খরচ তুলে লাভ করতে শুরু করেছে।

তবে এই ব্যবসা নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কেউ বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছেন। আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, প্রতি ঘণ্টায় ৩০০ ইউয়ান খরচ করে আসলেই কত মানুষ শরীর চুলকাতে চাইবেন?

৭ চাকরি বদলে সফল উদ্যোক্তা

ঝাংয়ের উদ্যোক্তা হওয়ার পথও ছিল বেশ বিচিত্র। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করার পর এক বছরে তিনি সাতটি ভিন্ন চাকরি করেন।

৩০ বছর বয়স হওয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ই-কমার্স খাতে দুটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। তবে কোনোটিই সফল হয়নি।

এরপর দুই বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ব্যবসায়ও নিজের ভাগ্য বদলের চেষ্টা করেন। সেখানেও বড় সাফল্য পাননি।

এবার ব্যতিক্রমী এই ব্যবসায় সত্যিই সাফল্যের মুখ দেখছেন তিনি।

এখন ঝাংয়ের লক্ষ্য আরও বড়। পুরো চীনে ১০০টি দোকান খোলার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তবে শুধু ব্যবসা সম্প্রসারণ নয়, এ সেবাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও তার অন্যতম লক্ষ্য।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট
কেএএ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *