রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের সক্ষমতা নেই ইউরোপের, শঙ্কায় ন্যাটো
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুদ্ধ শুরু হলে দীর্ঘমেয়াদি ‘ক্ষয়যুদ্ধ’ চালায়ে যাওয়ার সক্ষমতা নেই ইউরোপের। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সের (MSC) এক আলোচনায় দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের সক্ষমতা নিয়ে এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করা ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনাবিদরা। এর প্রধান কারণ হিসেবে ইউরোপে সাধারণ মানুষের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও মানসিকতা না থাকাকেই দায়ী করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য মতে, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানান, ইউরোপের জনগণ দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের চাপ নিতে কতটা প্রস্তুত তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে। ফলে ন্যাটোকে তুলনামূলকভাবে দ্রুত শেষ হতে-এমন সংঘাতের কথা মাথায় রেখে সামরিক পরিকল্পনা করতে হতে পারে।
যুক্তরাজ্যের সাবেক একজন মন্ত্রীর ভাষায়, রাশিয়ার সঙ্গে চলমান ‘হাইব্রিড যুদ্ধের’ মাত্রা সম্পর্কে জনগণকে আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এক ব্রিটিশ কূটনীতিক বলেন, ধারাবাহিকভাবে ব্রিটিশ সরকারগুলোও রাশিয়ার হুমকির ব্যাপকতা জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারেনি। ফলে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াতে গিয়ে ভোটারদের কল্যাণমূলক খাতে ব্যয় কমানোর যুক্তি মানবে না ইউরোপের জনগণ।
আলোচনায় আরও কয়েকটি বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। ইউরোপে ডানপন্থী পপুলিস্ট শক্তির উত্থান রাশিয়ার বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। জার্মানির অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (AfD)-সহ বেশ কয়েকটি পপুলিস্ট দল রাশিয়ার প্রতি তুলনামূলকভাবে সহানুভূতিশীল এবং ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান চায়।
‘E5’ কী?
এছাড়াও ইউরোপের প্রচলিত প্রতিরক্ষায় ভূমিকা কমিয়ে আনতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও পোল্যান্ডকে নিয়ে ‘E5’ নামে একটি ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা সমন্বয় কাঠামো জোরদারের প্রস্তাব উঠেছে।
তবে, ওয়াশিংটন ন্যাটোর ভেতরে ইউরোপের শক্তিশালী পৃথক প্রতিরক্ষা কাঠামোকে বাধা দিতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
MSC-এর চেয়ারম্যান উলফগ্যাং ইশিঙ্গার বলেন, ইউরোপ এমন এক সময়ে আটকা পড়েছে যখন বাইরের হুমকি অত্যন্ত গুরুতর ও অস্তিত্বের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তার মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের প্রতিরক্ষা খাতে আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন।
কেএম
