September 10, 2026

ভারত সফরে আগ্রহী তারেক রহমান, তবে আগে এজেন্ডা চূড়ান্ত করার ওপর জোর

0
6aa29f7b9d7a317890425556aa29f7b9d7b6.jpg



বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যত দ্রুত সম্ভব ভারত সফরে যেতে অত্যন্ত আগ্রহী। তবে এ ধরনের সফরের পর দেশে ফিরে জনগণের সামনে উপস্থাপনের মতো সুনির্দিষ্ট অর্জন ও সাফল্য কী থাকবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। গত বুধবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের এক শীর্ষ কূটনৈতিক কর্মকর্তা এসব কথা জানিয়েছেন।
ওই কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, ভারতের আমন্ত্রণে বহুপক্ষীয় ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নিলেও এর অর্থ এই নয় যে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা নিকটতম প্রতিবেশী ভারতকে ঢাকা এড়িয়ে চলতে চাইছে। বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানেন যে, আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরের শুরুর দিকে দ্বিপক্ষীয় কাঠামোতে তাকে নয়াদিল্লি সফর করতে হতে পারে। কারণ, আগামী ডিসেম্বরের শেষেই গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে এবং এটি দ্রুত নবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

সফরের আগে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে নিবিড় বৈঠকের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট এজেন্ডা নির্ধারণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ ভিসা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা, বাণিজ্যিক বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, স্থলবন্দরগুলোর ব্যবহার এবং জ্বালানি সংকটের মতো বিষয়গুলোতে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জন হলে তা সফরে বড় সাফল্য বয়ে আনবে।

বাংলাদেশ বাণিজ্যিক ও কনস্যুলার বিষয়গুলোকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের মতো কঠিন রাজনৈতিক ইস্যু থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তিটি ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসনামলেও কার্যকর ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বছরের শেষ হওয়ার আগে এই চুক্তি নবায়ন না হলে তা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের কিছু রাজনৈতিক মহলের বিরোধিতার মুখে এই প্রক্রিয়া বিলম্বিত করা উল্টো ফলদায়ক হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর এমনভাবে পরিকল্পনা করা উচিত, যাতে এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক তার পূর্ণ সম্ভাবনায় ফিরে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হয়। কর্মকর্তাটি জানান, শেখ হাসিনার দলের সদস্যদের নিয়ে ভারতে নতুন করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ ভারত বন্ধ করে দিয়েছে—এটিকে ঢাকার পক্ষ থেকে একটি গঠনমূলক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি সংবাদ সম্মেলনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল। তবে সব প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে বর্তমান সরকার আন্তরিক বলে জানান ওই কর্মকর্তা।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *