August 31, 2026

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা

0
jagonewsimage-1-mth7t2ug2qlsdmh-20260831182918.jpg


জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এ প্রথমবারের মতো সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ‘প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা’ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মচারীরা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতি সন্তানের জন্য মাসিক ৩ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রাপ্য হবেন।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তান থাকা পরিবারগুলোর বাড়তি আর্থিক চাপের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, এমন সন্তানের দেখাশোনা ও পরিচর্যার জন্য অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত লোক রাখার প্রয়োজন হয়, ফলে পরিবারের ব্যয়ও বেড়ে যায়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, যাদের ঘরে এমন সন্তান আছে তাদের একটা কাজের লোক রাখতে গেলেও সন্তানকে ছেড়ে তো যেতে পারে না কোথাও। তো সেটার জন্য লাগে। তবুও অন্তত এই সহায়তাগুলো দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে নতুন বেতন স্কেলে শুধু বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতাই নয়, সরকারি কর্মচারীদের মোবাইল ভাতার ক্ষেত্রেও সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। এতদিন নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মচারীদের মোবাইল ভাতা প্রযোজ্য থাকলেও জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী সব গ্রেডের কর্মচারীকে মোবাইল ভাতার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

নতুন বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। প্রথম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ পর্যন্ত। আর নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বাড়ানো হয়েছে। ২০তম গ্রেডে মূল বেতন বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ১ জুলাইয়ের মধ্যে মূল বেতন মোট তিন ধাপে কার্যকর হবে। আর ভাতাসমূহ ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একযোগে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন। পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন চলতি সপ্তাহেই জারি হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তিনি বলেন, এই সপ্তাহেই হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। গেজেট একটা না, বেশ কয়েকটা হবে।

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য ভাতা চালুর বিষয়টি নতুন বেতন স্কেলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য সামাজিক সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে এসব সন্তানের পরিচর্যায় নিয়োজিত সরকারি কর্মচারীদের পরিবারের বাড়তি ব্যয়ের চাপ কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমএএস/ইএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *