নেপাল ও চীনে বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১৪১০, নিখোঁজ ৫৬৫০
নেপাল ও চীন সীমান্তে গত মাসের শেষের দিকে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্কারী বন্যা ও ভয়াবহ ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। গতকাল বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত মোট এক হাজার ৪১০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি, এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পাঁচ হাজার ৬৫০ জনেরও বেশি মানুষ। দুই দেশের সরকারি হিসাব মিলিয়ে এই বিশাল হতাহতের ও নিখোঁজের চিত্র উঠে এসেছে।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বিভিন্ন বন্যাদুর্গত জেলা থেকে এখন পর্যন্ত এক হাজার ৩৬৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপ ও প্লাবিত অঞ্চলগুলোতে এখনো উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা। দেশটিতে ৫৮৭ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট পাঁচ হাজার ১৩২ জন মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। সরকারি ও বেসরকারি প্রচেষ্টায় এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে বা উদ্ধারে সফল হয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
অন্যদিকে, নেপালের পাশাপাশি চীনের তিব্বত অঞ্চলেও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ মারাত্মক আঘাত হেনেছে। তিব্বত ভূখণ্ডে আকস্মিক ভূমিধসের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলেও বহু মানুষ আটকে পড়েছিলেন বা নিখোঁজ হয়েছেন; যার মধ্যে ২৬১ জন বিদেশী নাগরিকসহ মোট ৫১৯ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দলগুলো দুর্গম পাহাড়ি এই এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের বড় একটি অংশে বিদেশী নাগরিক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। নেপাল ও চীনের সীমান্ত এলাকার এই দুর্যোগে বহু পর্যটক ও প্রবাসী শ্রমিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৈরী আবহাওয়া এবং দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উদ্ধারকাজে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
Source link
