নাম বদলে তারকা হওয়া যেসব অভিনেত্রী
বাংলা চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন অনেক জনপ্রিয় অভিনেত্রী রয়েছেন, যারা বাবা-মায়ের দেওয়া নামের বদলে ভিন্ন নামে চলচ্চিত্রে পরিচিতি পেয়েছেন। সময়ের সঙ্গে পর্দার সেই নামই হয়ে উঠেছে তাদের তারকা পরিচয়ের প্রধান অংশ। এমনকি অনেক দর্শকই হয়তো জানেন না, প্রিয় এই অভিনেত্রীদের জন্মনাম কী ছিল।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে বাংলা চলচ্চিত্রের কয়েকজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীর পর্দার নাম ও আসল নাম তুলে ধরা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, নাম পরিবর্তন করে তারকা পরিচিতি পাওয়া সেই অভিনেত্রীদের সম্পর্কে—
শাবানা
ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানার আসল নাম আফরোজা সুলতানা রত্না। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। একসময় ‘শাবানা’ নামটিই হয়ে ওঠে তার স্থায়ী চলচ্চিত্র পরিচয়।
ববিতা
বরেণ্য অভিনেত্রী ববিতার আসল নাম ফরিদা আক্তার পপি। ষাটের দশকে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে তিনি দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান এই অভিনেত্রী। কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমাতেও অভিনয় করেছেন তিনি।
কবরী
বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ হিসেবে খ্যাত কবরীর আসল নাম মীনা পাল। অভিনয়গুণ, সৌন্দর্য ও স্বতন্ত্র অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে কয়েক দশক ধরে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি জীবনের পরবর্তী সময়ে রাজনীতিতেও যুক্ত হয়েছিলেন কবরী।
রোজী আফসারী
চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রোজী আফসারীর আসল নাম শামীমা আক্তার বলে জানা যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে তার অবদানও স্মরণীয় হয়ে আছে।
দিতি
জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিতির আসল নাম পারভীন সুলতানা। আশি ও নব্বইয়ের দশকে বড় পর্দায় তার অভিনীত বেশ কিছু সিনেমা দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টেলিভিশন নাটকেও অভিনয় করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
মৌসুমী
ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা মৌসুমীর আসল নাম আরিফা আক্তার জামান। নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে পা রাখার পর অল্প সময়ের মধ্যেই তারকা খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করে ঢালিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মৌসুমী।
শাবনূর
ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূরের আসল নাম শারমিন নাহিদ নূপুর। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর দ্রুতই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে রোমান্টিক ও পারিবারিক ঘরানার সিনেমায় তার অভিনয় দর্শকদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়।
পূর্ণিমা
চিত্রনায়িকা পূর্ণিমার আসল নাম দিলারা হানিফ রিতা। চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর অভিনয় দক্ষতা ও সৌন্দর্যের মাধ্যমে দ্রুতই দর্শকের নজর কাড়েন তিনি। সিনেমার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় টেলিভিশন অনুষ্ঠান উপস্থাপনাতেও দেখা গেছে তাকে।
মাহিয়া মাহি
সমসাময়িক ঢালিউডের পরিচিত মুখ মাহিয়া মাহির আসল নাম শারমিন আক্তার নিপা। চলচ্চিত্রে অভিষেকের পর বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে অল্প সময়ের মধ্যেই নিজের আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
পরীমণি
বর্তমান প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রী পরীমণির আসল নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেও প্রায়ই আলোচনায় থাকেন এই অভিনেত্রী।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য নাম পরিবর্তনের ঘটনা নতুন কিছু নয়। অনেক সময় নামকে সহজ, শ্রুতিমধুর এবং দর্শকের মনে রাখার উপযোগী করতে শিল্পীরা ভিন্ন নাম গ্রহণ করেন। আবার কখনো নির্মাতা, প্রযোজক বা চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের পরামর্শেও নাম পরিবর্তন করা হয়।
তবে এসব অভিনেত্রীর ক্ষেত্রে পরিবর্তিত নামগুলোই শেষ পর্যন্ত এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যে, সেটিই তাদের স্থায়ী পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। আফরোজা সুলতানা রত্না থেকে শাবানা, ফরিদা আক্তার পপি থেকে ববিতা, মীনা পাল থেকে কবরী কিংবা শামসুন্নাহার স্মৃতি থেকে পরীমণি—পর্দার নামেই তারা পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা ও তারকা খ্যাতি।
জন্মনাম হয়তো অনেকের কাছেই অচেনা, কিন্তু চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত নামগুলোই আজও দর্শকের স্মৃতি ও ভালোবাসায় উজ্জ্বল হয়ে আছে।
আমার বাঙলা/ রাব্বি
