September 1, 2026

‘ফিল্ম আমার কাছে সবচেয়ে পবিত্র জায়গা’: পপি

0
6a9685e2bf0b417882495706a9685e2bf0b6.jpg



সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ফের আলোচনায় এসেছেন ঢালিউডের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়, পপি নাকি বলেছেন, ‘যতটা পাপ কামিয়েছি, তার সবটা ধুয়েমুছে সুন্দরভাবে মরতে চাই।’ তবে এমন বক্তব্য তিনি দেননি বলে স্পষ্ট করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারজয়ী এই অভিনেত্রী।

ভাইরাল হওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। পরে একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় পপি বলেন, ‘আমি কেন এ ধরনের কথা বলব? ফিল্মকে কখনো আমি পাপ বলিনি। এটা আমার পেশা। জীবিকার প্রয়োজনে চলচ্চিত্রে কাজ করেছি। আমার উপার্জনেই আমার পরিবার চলেছে।’

পপি জানান, পরিবারের জন্য নিজের জীবনের অনেক কিছু বিসর্জন দেওয়ার প্রসঙ্গেই তিনি ‘পাপ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন। কিন্তু তার কথার প্রকৃত অর্থ না বুঝে বা সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে ভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।

তার ভাষায়, ‘কিছু অমানুষকে লালনপালন করেছি। নিজের জন্য কিছু না রেখে পরিবারের জন্য নিজেকে উজাড় করে দিয়েছি। সেটাকেই আমার জন্য পাপ বলেছিলাম। পরিবারের প্রতি ক্ষোভ থেকে কথাগুলো বলেছিলাম, কিন্তু গণমাধ্যমে সেভাবে আসেনি। বরং সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে আমাকে অপমান করে বিষয়টি ভাইরাল করা হয়েছে।’

চলচ্চিত্রের প্রতি নিজের গভীর ভালোবাসার কথা তুলে ধরে পপি বলেন, ‘ফিল্ম আমার কাছে সবচেয়ে পবিত্র জায়গা। এই পবিত্র জায়গা থেকেই উপার্জন করে আমার পরিবার চালিয়েছি। তাই চলচ্চিত্রকে কখনো ছোট করার প্রশ্নই আসে না। বরং সবসময় ফিল্মকে সম্মানের চোখে দেখেছি।’

শিল্পী ও শিল্পের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একজন শিল্পী একদিনে তৈরি হন না। দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একজন শিল্পীর পরিচিতি তৈরি হয়। তাই কোনো শিল্পীকে নিয়ে মন্তব্য বা সংবাদ প্রকাশের আগে তার ক্যারিয়ার ও অবদান বিবেচনা করা উচিত।

পপি বলেন, ‘আমরা দর্শকদের জন্য কাজ করেছি। আমাকে নিয়ে দুই লাইন লেখার আগে অন্তত ভাবা উচিত ছিল, আমি আসলে কেমন। চলচ্চিত্রে আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ার রয়েছে। সেই জায়গা থেকে এতটুকু সম্মান কি আমি পেতে পারি না? এখন আমি চলচ্চিত্রে কাজ করি না, সেটি ঠিক আছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমাকে নিয়ে যা ইচ্ছা বলা যাবে।’

চলচ্চিত্র থেকে দূরে থাকলেও এত বছরের অর্জন ও সম্মান মুছে যাবে না বলে মনে করেন পপি। তিনি বলেন, ‘ফিল্ম থেকে সরে গেলেই কি সম্মানও চলে যাবে? এত বছরে যা অর্জন করেছি, তা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত থাকবে। আমাকে যেভাবে কটাক্ষ করে কথাগুলো ছড়ানো হয়েছে, আমি সেভাবে বলিনি। আমার বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে। আবারও বলছি, ফিল্ম আমার কাছে সবচেয়ে সম্মানের জায়গা, আমার দ্বিতীয় পরিবার।’

প্রায় তিন দশকের অভিনয়জীবনে চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও সাফল্যের কথাও স্মরণ করেন পপি। ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের অবদান কখনো অস্বীকার করতে পারবেন না বলে জানান তিনি।

পপির ভাষায়, ‘আজ আমি যা কিছু হয়েছি, ফিল্ম থেকেই হয়েছি। চলচ্চিত্রের মানুষদের সঙ্গে যতটা সময় কাটিয়েছি, অনেক সময় পরিবারের সঙ্গেও এতটা থাকা হয়নি। তাদের কীভাবে অস্বীকার করব? প্রায় তিন দশক চলচ্চিত্রকে দিয়েছি। ফিল্মকে ভালো না বাসলে, সম্মান না করলে এতদিন কাজ করা সম্ভব হতো না।’

এ প্রসঙ্গে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানার উদাহরণও টানেন পপি। তিনি বলেন, ‘শাবানা ম্যাডাম অনেক বছর ধরে চলচ্চিত্রে কাজ করেন না। তাই বলে কি তার প্রাপ্য সম্মান কমে যাবে? আমিও এখন কাজ করছি না বলে কি আমাকে অসম্মান করা হবে?’

বর্তমানে সংসার ও ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বেশি সময় দিচ্ছেন বলে জানান পপি। শুটিংয়ের ব্যস্ততার কারণে আগে অনেক সময় নামাজ কাজা হয়ে গেলেও এখন নিয়মিত সময়মতো নামাজ আদায় করছেন এবং নামাজ-রোজা পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

পপি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘আমি তো কোনো পাপ করছি না। আর পাপ বলতে তারা কী বোঝাতে চায়? একজন শিক্ষিত মানুষ কখনো শিল্পীকে ছোট করার চেষ্টা করতে পারে না।’

ভক্ত ও সহকর্মীদের উদ্দেশে পপি অনুরোধ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুল ব্যাখ্যার কারণে যেন কেউ তাকে ভুল না বোঝেন। চলচ্চিত্রের মানুষদের নিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তার মুখ থেকে কোনো অসম্মানজনক কথা বের হবে না বলেও জানান তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই অভিনয় থেকে দূরে রয়েছেন পপি। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রির মানুষদের সঙ্গেও তার যোগাযোগ তুলনামূলক কম। স্বামী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ভালো আছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

আপাতত সংসারকেই বেশি গুরুত্ব দিতে চান এই অভিনেত্রী। নিকট ভবিষ্যতে অভিনয়ে ফেরার পরিকল্পনা না থাকলেও ভবিষ্যতে প্রযোজনায় যুক্ত হওয়ার আগ্রহ রয়েছে বলে জানিয়েছেন পপি।

আমার বাঙলা/ রাব্বি /মোশাররফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *