September 8, 2026

জাবি সিন্ডিকেট থেকে পদত্যাগ করে আলোচনায় বিএনপিপন্থি শিক্ষক

0
og_1788862859_6a9fe18b2ea74.jpeg


জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিএনপিপন্থি শিক্ষক অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান। পদত্যাগের পেছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ওপর ‘রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের’ অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

তার দাবি, তাকে সিন্ডিকেট সদস্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলমকে পরিবর্তনের জন্য উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে যাতে উপাচার্যকে বিব্রতকর অবস্থায় না পড়তে হয়, সেজন্য তিনি নিজে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত বছরের ২৩ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জাহাঙ্গীরনগন বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩-এর ২২(১) জি ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খানকে সিন্ডিকেট সদস্য মনোনয়ন করা হয়। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের এক মহল থেকে উপাচার্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জুলাই মাসের শেষে অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। গতমাসে কারও নাম সুপারিশ না করে পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন উপাচার্য।

উপাচার্য ঘনিষ্ঠ এক অধ্যাপক জানান, সিন্ডিকেট সদস্য ছালেহ ও সাবেক প্রক্টর রাশেদ উপাচার্যের কাছে নির্ভরযোগ্য মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাই তাদের দায়িত্ব পরিবর্তনের জন্য নতুন প্রশাসন থেকে উপাচার্যের ওপর চাপ ছিল। অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মেদের স্থলে বিএনপিপন্থি এক নারী অধ্যাপককে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া, গত বছরের জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক রাশেদুল আলমের সঙ্গে বিএনপিপন্থি কয়েকজন শিক্ষকের মনোমালিন্য হয়। এর সূত্রপাত থেকে তাদের পরিবর্তন করতে চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বলেন, ‌‘অধ্যাপক ছালেহ নিজ থেকে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। যদিও আমি তা দেখিনি। তবে তিনি ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে পদত্যাগ করেছেন।’

পদত্যাগের বিষয়ে অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ বলেন, ‘জুলাই মাসে আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র দিলেও এখন অনেকে নানা ধরনের ট্যাগ দিয়ে প্রচার করছে যে, আমাকে সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে বাতিল করা হয়েছে। তারা জানুক, আমার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হোক, তা আমি চাই না। তাই ব্যক্তিগত অবস্থানের চেয়ে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে আমি নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছি।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদ খান ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন। যদিও আমি চাইনি তিনি পদত্যাগ করুক। গতমাসে তার পদত্যাগপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি, তবে কারও নাম সুপারিশ করিনি।’

পদত্যাগের পেছনে তার ওপর চাপ ছিল—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বিস্তারিত জানাবেন বলে আশ্বাস দেন।

অধ্যাপক ছালেহ আহাম্মদের সিন্ডিকেট সদস্য পদ থেকে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার দুদিন পর তৎকালীন প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলমও ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। পরে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক জাকির হোসেনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

রকিব হাসান প্রান্ত/এসআর/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *