September 3, 2026

চুরির ছয় টন চালসহ দুই জেলা থেকে গ্রেফতার ৫

0
og_1788448215_6a998dd725ab7.jpeg


কুষ্টিয়ার খাজানগরের এক চাল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বাকিতে ১৩ টন চাল কিনে কৌশলে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলার পর টানা দুদিনের অভিযানে পুলিশ ঝালকাঠি ও বরিশাল জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া ১৩ টন চালের মধ্যে প্রায় ছয় টন চাল উদ্ধার করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছেন- আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. আরিফ হোসেন (৪০), মৃত মোফাজ্জেল মোল্লার ছেলে আব্দুর রহিম (৩৮), শাহ আলম খানের ছেলে মো. মিজানুর রহমান রাজু (৩২), মৃত শৌকে আলী খান তালুকদারের ছেলে মো. বাদশা তালুকদার (৬৫) এবং ঝালকাঠি জেলার নলসিটি থানার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে মো. আলম হাওলাদার (৫০)। বাকি চার আসামির বাড়ি ঝালকাঠি জেলার গাবখান ৯ নম্বর ওয়ার্ডে।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন খাজানগর এলাকার ‌নূর অটো রাইস মিলের মালিক ব্যবসায়ী হাজি আমিরুল ইসলাম এর কাছ থেকে ঢাকার মিরপুর কচুক্ষেত এলাকার মো. কাশেম (৪৫) পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে দুইবার চাল ক্রয় করে তার বিশ্বাস অর্জন করেন। পরে গত ১৫ আগস্ট প্রতারক কাশেম মোবাইল ফোনে ১৩ টন চাল ক্রয়ের কথা বলে।

ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম সরল বিশ্বাসে গত ১৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টার দিকে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘নূর অটো রাইসমিল’ খাজানগর হতে ১৩ টন চাল আসামির পাঠানো ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের মাধ্যমে ঢাকার কচুক্ষেত রজনীগন্ধা সুপার মার্কেটের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। পরবর্তীতে প্রতারক কাশেমের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পওয়া যায়। ট্রাক ড্রাইভার মো. রাসেলের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সে জানায়, পরের দিন ২০ আগস্ট দিবাগত রাত একটার সময় সে চাল ভর্তি ট্রাকটি নিয়ে কাশেমের ঠিকানায় পৌঁছায়।

পরবর্তীতে কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা প্রতারক চক্রটি কৌশলে ট্রাকটি ঢাকার বাবু বাজার টিন পট্টিতে নিয়ে যায়। এর পর রেজিঃ নং-ঢাকা মেট্রো-ড-১২-৬৩২০ সিরিয়ালের অপর একটি ট্রাকে করে চাল আনলোড করে অজ্ঞাতস্থানে চলে যায়। চুরির ঘটনায় প্রতারক কাশেমসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী আমিরুল ইসলাম কুষ্টিয়া মডেল থানায় মামলার পর পুলিশ চুরি যাওয়া চাল উদ্ধার এবং প্রতারক চক্রকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান শুরু করে।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন বলেন, সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রটি চাল চুরির পর ঝালকাঠি এবং বরিশাল দুই জায়গায় চাল লুকিয়ে রেখেছিল। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে।

ওসি আরও বলেন, মূল আসামি মো. কাশেমসহ প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার মিল মালিক এবং চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একাধিক প্রতারক চক্র রয়েছে। এর আগেও এ ধরনের কৌশলে চাল চুরির একাধিক ঘটনা ঘটেছে। থানায় এ সংক্রান্ত প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে।

আল-মামুন সাগর/এসজেডএইচ/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *