চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাব বাতিলের দাবি ছাত্র ফ্রন্টের
সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডের নিয়োগে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট।
সংগঠনটি মনে করে, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানো হলে সরকারি চাকরির নিয়োগে দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ আরও বাড়বে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক কমরেড রাফিকুজ্জামান ফরিদ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকারি চাকরিতে ১১ থেকে ২০ গ্রেডে নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সর্বোচ্চ ৪০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির প্রস্তাবিত নতুন বিধিমালায় বিভিন্ন গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫, ৪০ ও ৫০ করার কথা বলা হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা বলেন, চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় এ ধরনের প্রস্তাবনা অযৌক্তিক ও দুরভিসন্ধিমূলক। সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে জনমনে আগে থেকেই সংশয় রয়েছে। অতীতে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগও পাওয়া গেছে।
তারা বলেন, মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়োগ পরীক্ষায় দলীয়করণ, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির পথকে প্রশস্ত করবে।
নিয়োগ পরীক্ষায় প্রক্সি, প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি কিংবা অন্য কোনো অনিয়ম থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। তবে এসব অনিয়মকে কারণ দেখিয়ে লিখিত পরীক্ষার গুরুত্ব কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেন নেতারা।
ছাত্র ফ্রন্টের নেতারা আরও বলেন, দেশে বিপুলসংখ্যক তরুণ বেকার। পড়াশোনা শেষ করে তাদের চাকরির পরীক্ষায় তীব্র প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা ছিল বেকারত্বমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পরও বেকারত্ব নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।
বিবৃতিতে অবিলম্বে মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বৃদ্ধির প্রস্তাব বাতিল এবং বেকারত্ব নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
আরটি/এমকেআর
