‘আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না’
‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আর আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না।’
চিরকুটে লেখা এসব কথাই এখন বারবার কাঁদাচ্ছে ১৬ বছরের কিশোর আরিফুল ইসলামের পরিবারকে। গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। এরপর কেটে গেছে ১৫ দিন। কিন্তু এখনো বাড়ি ফেরেনি এই শিক্ষার্থী। আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান মেলেনি।
আরিফুল ইসলাম মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের গোপালপুর ভাদুটিয়া এলাকার মো. শামসুল হকের ছেলে। সে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে রেজিস্ট্রেশন ফরম জমা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় আরিফুল। এরপর আর সে বাড়িতে ফেরেনি। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের বাড়িতে খোঁজ নেন। পরিচিত বিভিন্ন স্থানেও সন্ধান চালানো হয়। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান না পাওয়ায় ধীরে ধীরে উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে আরিফুলের ব্যবহৃত জিনিসপত্রের মধ্যে একটি চিরকুট খুঁজে পান পরিবারের সদস্যরা। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘আমার জন্য সবাই দোয়া করবে, যেন আমি যেখানে থাকি ভালো থাকি। আর কেউ আমাকে খোঁজার চেষ্টা করবে না। আর আমাকে খুঁজেও কোনো লাভ হবে না।’
এই চিরকুট পাওয়ার পর পরিবারের উৎকণ্ঠা আরও বেড়ে যায়। কারণ, নিখোঁজ হওয়ার আগে আরিফুলের আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেননি বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সঙ্গে তার কোনো বিরোধ বা ঝগড়াঝাঁটির কথাও তারা জানেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ছোটবেলা থেকেই আরিফুল অত্যন্ত মেধাবী। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি তার ব্যবহারও ছিল সবার সঙ্গে ভালো।
ছেলের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দিশেহারা আরিফুলের বাবা মো. শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘অনেক খোঁজাখুঁজি করেও ছেলের সন্ধান পাইনি। আমার ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে, কিছুই জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেকে ফিরে পেতে চাই।’
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, আরিফুলের নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তার অবস্থান শনাক্তে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
মো. সজল আলী/এফএ
