চাঁদা না দিলেই লুট-নির্যাতন, যমুনার চরে জিম্মি বাথান মালিকরা
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার সীমান্তবর্তী যমুনা নদীর চরাঞ্চলে সরকারি খাস জমিতে গড়ে ওঠা কাশবনের তৃণভূমি দখলকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্যের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরাঞ্চলের শত শত বাথান মালিক ও রাখাল জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গরু-মহিষ লুট, রাখালদের মারধর ও অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তাদের।
সম্প্রতি মাদারগঞ্জের পার্শ্ববর্তী বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার পাকুরিয়া চরে কাশবনের দখলদারি নিয়ে বিরোধের জেরে মুসলেমউদ্দীন নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চর ঘাঘুয়া এলাকা থেকে মাদারগঞ্জের কয়েকজন মহিষ মালিকের বাথান থেকে চার রাখালকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কয়েক লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে পাবনার রূপপুর এলাকা থেকে তাদের ছাড়িয়ে আনেন বাথান মালিকেরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জামালপুরের মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী, বগুড়ার সারিয়াকান্দি এবং সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার গরু-মহিষ বাথানে নেওয়া হয়। দুর্গম ও বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের সুযোগ নিয়ে একশ্রেণির অপরাধী চক্র কাশবনের তৃণভূমি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাথান মালিক ও রাখালদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাথানের গরু-মহিষ লুট, রাখালদের মারধর এবং অপহরণের মতো ঘটনা ঘটছে বলেও দাবি তাদের। এতে আতঙ্কে রয়েছেন চরাঞ্চলে গরু-মহিষ পালন করা শত শত বাথান মালিক ও রাখাল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি সারিয়াকান্দির কাজলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রফিকুল ইসলাম একটি বৈঠকের আয়োজন করেন। তিনি বলেন, সরকারি খাস জমির কাশবনে চাঁদা আদায় ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অচিরেই এসব চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে যমুনার চরাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাথান মালিকরা।
জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. ইয়াহিয়া আল মামুন বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাথান মালিক, রাখাল ও সংশ্লিষ্টদের সচেতন করা হবে। প্রয়োজন হলে পার্শ্ববর্তী জেলার পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
হৃদয় আহম্মেদ/কেএইচকে/এএসএম
