September 6, 2026

এক সড়কে বদলে গেছে ১৫ গ্রামের মানুষের ভাগ্য

0
comilla-2-20260906122608.jpg


কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় নতুন এক সড়কে বদলে গেছে ১৫ গ্রামের মানুষের ভাগ্য। কুমিল্লার নিমসার বাজার থেকে ময়নামতি বাজার পর্যন্ত এই সড়কের অবস্থান। সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে যোগাযোগের নতুন দিগন্তের সৃষ্টি হয়েছে। কৃষিপণ্য, বাজার, স্কুল ও হাসপাতালে যাতায়াত সহজ হয়েছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার নিমসার বাজার থেকে ময়নামতি বাজার সড়কটির দৈর্ঘ্য ৭ কিলোমিটার। শিকারপুর গ্রামের মাঝের এক কিলোমিটার বিটুমিন ঢালাই করা হয়েছে। এক কিলোমিটার কোনো সড়ক ছিল না, সেখানে ছিল ধান খেতের আইল। সেই এক কিলোমিটারও সড়কে পরিণত করা হয়েছে। বাকি ৫ কিলোমিটারে মাটি ভরাট, ইটের খোয়া ফেলে সংস্কার করা হয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়ক বিটুমিন ঢালাই করা হবে। স্থানীয় শিকারপুর গ্রামের গোলাম সারোয়ার ব্যক্তি উদ্যোগে সড়কটি সংস্কার করেন। সড়কটির কারণে নিমসার, শিকারপুর, আবিদপুর, বারাইলগজারিয়া, লোদন, বিন্দিয়ারচর, নামতলা, বাদিয়াপাড়া, আকাবপুর, জিয়াপুর, বারিকোটাসহ বিভিন্ন গ্রামের মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, পিচঢালা পথ পেরিয়ে ১৫ ফুট চওড়া কাঁচা সড়ক। দুই পাশে সবুজ ফসলের মাঠ। মাঠে কৃষকরা ধানের চারা লাগানোতে ব্যস্ত। কেউ বিশ্রামের জন্য সড়কে উঠে এসেছেন, কেউবা সড়কের পাশে খাবার নিয়ে বসেছেন। সড়ক পেরিয়ে দূরের গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন পথিকরা। সড়কের পাশে লাগানো হয়েছে সুপারি গাছ।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রশিদ, সানা উল্লাহ, মো. সেলিম ও রাশেদ মিয়া জানান, ৮ মাস আগে এই সড়কটি এমন ছিল না। এই সড়কের একটি অংশ ছিল ধান খেতের আইল। কাদা মাড়িয়ে চলতে হতো। গাড়ি দূরে থাক, মানুষের হাঁটার ব্যবস্থাও ছিল না। সরকারি উদ্যোগ না থাকায় গোলাম সারোয়ার এই সড়কটি সংস্কার করেন। এখন কৃষি পণ্য বহন, রোগীকে জরুরি হাসপাতালে নেওয়া ও বাজারে গবাদিপশুসহ যাতায়াত সহজ হয়েছে।

সড়কের উদ্যোক্তা গোলাম সায়োর বলেন, ময়নামতি বাজার থেকে শিকারপুর হয়ে সড়কটি নিমসার চলে গেছে। সড়কটি আমাদের গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে। ছোটকাল থেকে এই সড়কে যাতায়াত করা মানুষের দুর্ভোগ দেখে আসছি। এটির একটি অংশ ধান খেতের আইল ছিল। তাই সড়কটির সংস্কারে হাত দিয়েছি। এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে ১৫ গ্রামের মানুষ উপকৃত হয়েছেন। ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো সড়ক পাকা করবো ইনশাল্লাহ।

শিকারপুর গ্রামের বাসিন্দা কুমিল্লা বিসিকের ডিজিএম মুনতাসীর মামুন বলেন, গোলাম সায়োরের বাবা প্রয়াত জুনাব আলী ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী ও দানবীর। জুনাব আলীর মতো তার ছেলে গোলাম সায়োরও সামাজিক কাজ করে আসছেন। সড়কটি সংস্কার করায় ১০-১৫ গ্রামের মানুষ উপকৃত হয়েছেন।

জাহিদ পাটোয়ারী/এফএ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *