September 3, 2026

ইউনিলিভার-নেসলে-বিকাশসহ বড় কোম্পানিকে পুঁজিবাজারে চায় বিএসইসি

0
og_1788442344_6a9976e82dade.jpeg


দেশের পুঁজিবাজারে ইউনিলিভার, নেসলে, বিকাশসহ বড় ও স্বনামধন্য কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষ্যে ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রেখে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এরই ধারাবাহিকতায় সরাসরি তালিকাভুক্তির খসড়া বিধিমালা নিয়ে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে বিএসইসি। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

সভায় বিএসইসির কমিশনারদের পাশাপাশি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এছাড়া বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের সভাপতি, বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বিভিন্ন তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানি, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইস্যু ব্যবস্থাপক, পেশাজীবী সংগঠন এবং পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় সরাসরি তালিকাভুক্তির খসড়া বিধিমালার ওপর একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এতে সরাসরি স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্তির জন্য যোগ্য কোম্পানি, আবেদন ও তালিকাভুক্তির শর্ত, মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়াসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।

সভায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা খসড়া বিধিমালার বিভিন্ন ধারা ও প্রস্তাবিত ব্যবস্থার বিষয়ে তাঁদের মতামত, পর্যবেক্ষণ, পরামর্শ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। বিশেষ করে প্রকৃত ও সক্ষম কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যুক্ত করার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণ ও বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিষয়ে মতামত দেন তারা।

সভায় বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, দেশের পুঁজিবাজারে মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানির সংখ্যা এখনও পর্যাপ্ত নয়। এ অবস্থায় ভালো ও স্বনামধন্য বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে পুঁজিবাজারে যুক্ত করে বাজারের গভীরতা ও পরিধি বাড়াতে চায় কমিশন।

তিনি বলেন, ভালো কোম্পানির অংশগ্রহণ বাড়লে পুঁজিবাজার আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের পথও সুগম হবে।

তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির মাধ্যমে একটি কোম্পানির সুনাম ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে একটি শক্তিশালী করপোরেট ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

তিনি আরও বলেন, তালিকাভুক্ত কোম্পানি হিসেবে বিভিন্ন কর-সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি কোম্পানির মূল্য বৃদ্ধি এবং শেয়ারের তারল্য বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে কোম্পানির উত্তরসূরিরাও তাঁদের শেয়ার নগদায়নের সুযোগ পান। ভবিষ্যতে কোম্পানির সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত পুঁজির জোগান পেতেও তালিকাভুক্তি সহায়ক হবে।

বিএসইসি চেয়ারম্যান জানান, সরাসরি তালিকাভুক্তির পাশাপাশি প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের বিধিমালাকেও আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে কমিশন। কোম্পানিগুলো যাতে একইসঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি এবং নতুন শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে পারে, সে বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই সমন্বিত পদ্ধতিতে ভালো ও যোগ্য কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছে বিএসইসি। এতে বাজারে নতুন বিনিয়োগের সুযোগও সৃষ্টি হবে।

মতবিনিময় সভায় ইউনিলিভার, মেটলাইফ, নেসলে বাংলাদেশ, বাংলালিংক, কর্ণফুলী সার কোম্পানি, বিকাশ, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, এসেনশিয়াল ড্রাগস, সিনোভিয়া ফার্মাসিউটিক্যালস, নগদ, মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, ডিবিএল গ্রুপ, আবুল খায়ের গ্রুপ, ইউনিক গ্রুপ, কাজী ফার্মস গ্রুপ, কনফিডেন্স গ্রুপ, কনফিডেন্স অবকাঠামো, বিআরবি ক্যাবলস, এডিসন পাওয়ার, এডিসন ফুটওয়্যার, বোরাক রিয়েল এস্টেট, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড, অনন্ত গ্রুপ, এসিআই, নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি, ওয়ালটন, আকিজ রিসোর্সেস, ইমপ্রেস-নিউটেক্স কম্পোজিট টেক্সটাইল, ন্যাশনাল পলিমার, কর্ণফুলী গ্যাস বিতরণ কোম্পানি ও সেভেন রিংস সিমেন্টের শীর্ষ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের কেউ সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে এবং কেউ একইসঙ্গে বিদ্যমান শেয়ার বিক্রি ও প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা কমিশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে খসড়া বিধিমালা চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও মতামত দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এর আগে বিএসইসি ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সরাসরি সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্তি) বিধিমালা, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন করে জনমতের জন্য প্রকাশ করেছে। নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে দেশের ভালো ও মৌলভিত্তিসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে সরাসরি পুঁজিবাজারে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছে কমিশন।

এমএএস/এমএএইচ/



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *