আগামীতে সংসদের সব কার্যক্রম সৌরবিদ্যুতে চালানোর পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীতে জাতীয় সংসদের সব কার্যক্রমে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করার পরিকল্পনার কথা বলেছেন বলে সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা আগামী দিনে এই জাতীয় সংসদের সব কার্যক্রমে ন্যাশনাল গ্রিড থেকে কোনো বিদ্যুৎ নেবো না। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা এই প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে চাই।’
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ৭১ বিধিতে নোটিশটি দেন।
প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমরা ৪৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প রামপালে স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’
মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্রকল্পের অ্যাশ পয়েন্টের জন্য নির্ধারিত জায়গায়ও ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর ফেনীতে বিভিন্ন সামাজিক সুবিধার কার্ড বিতরণের কর্মসূচি রয়েছে। এ উপলক্ষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ২৩টি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প গ্রহণ করেছে এবং বিদ্যুৎ বিভাগও এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প সম্প্রসারণের ফলে একদিকে জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় হওয়া বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
অমিত বলেন, তরুণ ও যুব সমাজের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের। এ জন্য সৌরবিদ্যুৎ খাতের উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। এতে তারা উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সৌরবিদ্যুৎ খাতে এগিয়ে আসতে পারবেন।
সম্পূরক প্রশ্নে হেলেন জেরিন খান জানতে চান, রুফটপ সোলারের জন্য কোনো মানচিত্র প্রকাশের পরিকল্পনা আছে কি না। একই সঙ্গে নদীমাতৃক বাংলাদেশে বড় নদীর বিশাল জলরাশির ওপর সৌরপ্যানেল স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না- জানতে চান তিনি।
জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বড় সৌর প্রকল্পের জন্য পিপিপি পদ্ধতিতে সরকার জমি দেবে। বিনিয়োগকারীদের নিজেদের জমি কিনতে হলে প্রকল্পের বিনিয়োগ ও বিদ্যুতের মূল্য দুটোই বাড়বে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে তাদের পতিত জমি এবং আগামী ২০ থেকে ২৫ বছরেও ব্যবহারের সম্ভাবনা কম- এমন জমির তালিকা দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। সব মন্ত্রণালয় মিলে প্রায় ৬০ হাজার একর জমির প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে প্রায় ৩শ একর জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব জমি ইনভেস্ট বাংলাদেশের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হবে। সরকার জমি দেবে এবং বিনিয়োগকারীরা সেখানে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন। জমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিতরণ ও সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতাও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানান বিদ্যুৎমন্ত্রী।
রুফটপ সোলারের জন্য আলাদা কোনো মানচিত্র প্রকাশের উদ্যোগ এখনো নেই উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিনিয়োগকারীরা যাতে এগিয়ে আসতে পারেন, সে জন্য নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
এমওএস/এএসএ


