September 6, 2026

৩৭ বছরের শিক্ষকতা শেষে ঘোড়ার গাড়িতে রাজকীয় বিদায়

0
sherpur-bg-20251209220132.jpg


তিন যুগের শিক্ষকতা জীবন শেষে বিদায় নিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে। বিদায়বেলায় তাকে বিশেষভাবে সম্মান জানিয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বিদায় সংবর্ধনা উপলক্ষে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানের। এসময় স্কাউট সদস্য ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা করতালি ও ফুল দিয়ে বিপুল চন্দ্র দেকে শুভেচ্ছা জানান। প্রাত্যহিক সমাবেশে তাকে সম্মানসূচক স্যালুট দেওয়া হয় এবং পরিবেশিত হয় বিদায়ী সংগীত।

পরে বিদ্যালয় মিলনায়তনে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, মানপত্র পাঠ ও বিতরণ, নাটিকা উপস্থাপন, উত্তরীয় পরিধান, গীতা পাঠ এবং উপহার বিতরণ করা হয়।

বিপুল চন্দ্র দে ১৯৮৯ সালের ১ আগস্ট করেরহাট কামিনী মজুমদার উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। সেখানে প্রায় ২২ বছর গণিতের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ২০১১ সালের ১ অক্টোবর জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। জোরারগঞ্জ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রায় ১৫ বছর দায়িত্ব পালনকালে তিনি শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ কর্মজীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২৫ সালে তিনি বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে চাকরি থেকে অবসর নেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বিপুল চন্দ্র দে। পরে তাকে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়া হয়। দীর্ঘ কর্মজীবনের পর প্রিয় শিক্ষককে এমন ব্যতিক্রমী বিদায় জানাতে পেরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও উপস্থিত অতিথিরা।

বিদায়ী শিক্ষক বিপুল চন্দ্র দে বলেন, শিক্ষকতা তার কাছে শুধু একটি পেশা নয়, বরং জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। দীর্ঘ কর্মজীবনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা পরিষদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা তিনি আজীবন স্মরণ রাখবেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করলেই হবে না, ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

জোরারগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আবুল হাশেম ভূঁইয়া বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিপুল চন্দ্র দে তার দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করেছেন। তার কর্মনিষ্ঠা ও শিক্ষার্থীদের প্রতি ভালোবাসা অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইফুল আলম বলেন, বিপুল চন্দ্র দে শুধু একজন দক্ষ শিক্ষকই নন, তিনি বিদ্যালয় পরিবারের একজন অভিভাবক ছিলেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবদান বিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

এম মাঈন উদ্দিন/এসআর/এএসএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *