September 3, 2026

সন্তান গোপনে খারাপ ভিডিও দেখছে? যেখানে ফোনের সেটিংস সাজাবেন

0
nepal-flood-afp-mtjq561rnpfw26g-20260902123751.jpg


স্মার্টফোন এখন শিশুদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। পড়াশোনা থেকে শুরু করে বিনোদন বিভিন্ন প্রয়োজনে ছোটরাও ফোন ব্যবহার করছে। কিন্তু ইন্টারনেটে যেমন দরকারি ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট রয়েছে, তেমনই রয়েছে বয়সের অনুপযুক্ত ভিডিও, ছবি ও ওয়েবসাইট। কৌতূহলবশত কিংবা ভুল করে শিশুরা এসব কনটেন্টের সামনে চলে আসতে পারে। তাই সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার পর কিছু গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস চালু করে রাখা বাবা-মায়ের জন্য জরুরি।

শুধু ফোন কেড়ে নেওয়া বা সারাক্ষণ নজরদারি করার বদলে স্মার্টফোনের নিজস্ব প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এবং স্ক্রিন টাইমের মতো সুবিধা ব্যবহার করেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড-দুই ধরনের ফোনেই রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

আইফোনে চালু করুন স্ক্রিন টাইম

আইফোনে ব্যবহার করলে প্রথমেই সেটিংস > স্ক্রিন টাইমে গিয়ে ফিচারটি চালু করুন। এরপর কনটেন্ট অ্যান্ড প্রাইভেসি রেজিস্ট্রেশনস অন করে একটি আলাদা পাসকোড সেট করুন। এই পাসকোড সন্তানের সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো।

এরপর কনটেন্ট রেজিস্ট্রেশনস > ওয়েব কনটেন্ট অপশনে গিয়ে লিমিট অ্যাডাল্ট ওয়েবসাইটস নির্বাচন করুন। এতে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি ওয়েবসাইটে প্রবেশ সীমিত করা যাবে।

অ্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বয়স অনুযায়ী সীমা নির্ধারণ করা সম্ভব। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপের এইজ রেটিং নিয়ন্ত্রণ করুন। পাশাপাশি আইটিউনস অ্যান্ড অ্যাপ স্টোর পারসেসেজে বিধিনিষেধ দিয়ে সন্তানের অনুমতি ছাড়া নতুন অ্যাপ ডাউনলোড বা ইন-অ্যাপ কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

স্ক্রিন টাইমের মাধ্যমে প্রতিদিন কতক্ষণ ফোন বা নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, সেটিও ঠিক করে দিতে পারবেন। রাতে ঘুমের সময় ফোন ব্যবহারের সীমা নির্ধারণ করাও সম্ভব।

অ্যান্ড্রয়েডে ফ্যামিলি লিঙ্ক কাজে লাগান

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের জন্য গুগল ফ্যামিলি লিঙ্ক বেশ কার্যকর। নিজের ফোনে ফ্যামিলি লিঙ্ক সেটআপ করে সন্তানের ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করলে তার অ্যাপ ব্যবহার এবং স্ক্রিন টাইম সম্পর্কে নজর রাখা যায়। কোন অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে, কোন অ্যাপ ব্লক থাকবে এবং প্রতিদিন কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করতে পারবে এসব বিষয়ে সীমা তৈরি করা সম্ভব। সমর্থিত সেটআপে সন্তানের ডিভাইসের লোকেশন দেখার সুবিধাও পাওয়া যায়।

ফ্যামিলি লিঙ্ক ব্যবহার করতে না চাইলে অ্যান্ড্রয়েডের ডিজিটাল ওয়েলনিয়িং ফিচার কাজে লাগাতে পারেন। সেখানে ফোকাস মোড ও অ্যাপ টাইমারস ব্যবহার করে নির্দিষ্ট অ্যাপের ব্যবহার কমানো যায়।

এছাড়া গুগল প্লে স্টোরের প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস চালু করে বয়স অনুযায়ী অ্যাপ ও কনটেন্ট ফিল্টার করা যেতে পারে। গুগল সার্চে সেফসার্চে সেফসার্চে চালু রাখলেও অনুপযুক্ত সার্চ রেজাল্টের সম্ভাবনা কমে।

ইউটিউব ও সোশ্যাল মিডিয়াও নজরে রাখুন

শুধু ফোনের সেটিংস পরিবর্তন করলেই হবে না। ইউটিউবে উপযুক্ত রেস্ট্রিকটেড মোড বা শিশুদের জন্য থাকা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। সন্তানের ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা অন্য কোনো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রাইভেসি সেটিংস-ও পরীক্ষা করুন। অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট রাখা, অপরিচিত ব্যক্তির যোগাযোগ সীমিত করা এবং সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট ব্লক বা রিপোর্ট করার নিয়ম শিশুকে শেখানো জরুরি।

শুধু নজরদারি নয়, বোঝানোও দরকার

ফোনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রাখার পাশাপাশি সন্তানের সঙ্গে খোলাখুলি কথা বলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে বা অনলাইনে কী ধরনের কনটেন্ট দেখছে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবে আলোচনা করুন।

কোনো অনুপযুক্ত কনটেন্ট চোখে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বকাঝকা না করে কেন সেটি তার বয়সের জন্য উপযুক্ত নয়, তা বোঝানোর চেষ্টা করুন। এতে অনলাইনে কোনও সমস্যায় পড়লে সন্তান বিষয়টি বাবা-মায়ের কাছে সহজে জানাতে পারবে।

রাতে ফোন সন্তানের বিছানার পাশে না রেখে নির্দিষ্ট জায়গায় চার্জে দেওয়ার অভ্যাস করানো যেতে পারে। পাশাপাশি পরিবারের মধ্যে প্রতিদিন কিছুটা সময় ‘ফোন-ফ্রি’ রাখাও ভালো।

অতিরিক্ত কড়াকড়ি নয়

সন্তানকে ইন্টারনেট থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভবও নয়, প্রয়োজনীয়ও নয়। অনলাইনে পড়াশোনা ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি নানা ধরনের ভালো তথ্যও পাওয়া যায়। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত ফোন বন্ধ করে দেওয়া নয়, বরং নিরাপদভাবে ব্যবহার শেখানো।

অ্যাডাল্ট কনটেন্টের পাশাপাশি সাইবারবুলিং, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ এবং ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি সম্পর্কেও শিশুকে সচেতন করুন। প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক এই তিনটি একসঙ্গে থাকলেই অনলাইন ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

কেএসকে



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *