যাত্রাবাড়ীতে ব্যবসায়ী সাগর হত্যা মামলায় তিনজনের রিমান্ড
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ব্যবসায়ী সাগর খান ওরফে ইমরানকে (৩৮) গুলি করে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আসামিরা হলেন- রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ (৩১), মো. কামরুল হাসান (২৫) ও মো. সাইফুল হোসেন (২০)।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালত শুনানি শেষে তাদের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাতদিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিনদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ইমরানের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। এ নিয়ে রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ ও কামরুল হাসানের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে ইমরানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে রিয়াজ, কামরুলসহ কয়েকজন মোটরসাইকেলে করে ইমরানের অটোরিকশার গ্যারেজে যান। তাদের মাথায় হেলমেট ছিল। সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রও ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
গ্যারেজে ঢুকে তারা গুলি ছোড়েন। একপর্যায়ে রিয়াজ পেছন থেকে ইমরানের মাথায় গুলি করেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে ইমরান মাটিতে পড়ে যান।
এ সময় ইমরানের বন্ধু সাদ্দাম বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। পরে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রিয়াজ তার বাম পায়ে গুলি করেন। অন্যরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে গুরুতর আহত করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা ইমরান ও সাদ্দামকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক ইমরানকে মৃত ঘোষণা করেন। সাদ্দামকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর ইমরানের স্ত্রী যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সঙ্গে আসামিদের সংশ্লিষ্টতা, হত্যার কারণ এবং আরও কেউ জড়িত কি না- এসব বিষয়ে তথ্য জানতে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেকের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এমডিএএ/এমএএইচ/
