September 12, 2026

মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

0
magna-alom-mtwuv6ouflh4xaq-20260911171246.jpg


দাম্পত্য জীবনের ৩১ বছর পেরিয়ে গেছে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় তারকা দম্পতি ওমর সানী ও মৌসুমীর। দীর্ঘ এই পথচলায় বদলেছে অনেক কিছু। সংসারের ব্যস্ততা বেড়েছে, সন্তানরা বড় হয়েছে। তবে এত বছর পরও স্ত্রী মৌসুমীর প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতা আগের মতোই আছে বলে জানিয়েছেন ওমর সানী।

সম্প্রতি দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন ও মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে গণমাধ্যমে খোলামেলা কথা বলেছেন এই অভিনেতা। সেখানে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর নানা গুণের পাশাপাশি তাদের সংসারের কিছু মজার অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মৌসুমীর কোন বিষয়টি এখনো তাকে বেশি আকর্ষণ করে-এমন প্রশ্নের জবাবে ওমর সানী বলেন, ‘মৌসুমীর কেয়ারিং এবং ওর জিদটাও আমাকে ভীষণ টানে। ও একটা কথা অনেক জমাট করে রাখতে পারে, আমি পারি না। আমার একটু ধৈর্য কম, ওর একটু বেশি আছে।’

স্ত্রীর জীবনে সন্তানদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে সানীর বক্তব্যে। তিনি বলেন, ‘একটা সময় ছিল বাবা-মা, আমি আর এখন আমাদের দুই সন্তান ফারদীন, ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে ওর যত চিন্তা। এরপর বাকি থাকলে আমি।’

সংসারের ছোট ছোট মুহূর্তও যে তাদের সম্পর্ককে আলাদা করে, সেটিও বোঝা যায় ওমর সানীর কথায়। খাবার টেবিলের একটি মজার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেখা গেল, আমি খেতে বসলাম, এই মাংসটা ফারদীন খাবে, এটা ফাইজা। ঠিক আছে। আমি অনেক সময় হাড্ডি চাবাই-চুবাই খাই। ভালোই লাগে এসব।’

দীর্ঘ দাম্পত্যে ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্ক নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। কখনো এসেছে বিচ্ছেদের গুঞ্জন, কখনো তাদের নিয়ে হয়েছে নানা ধরনের লেখালেখি। এসব প্রসঙ্গে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছেন সানী।

তিনি বলেন, ‘আমি তো মানুষ, আমার ভুল হতেই পারে। মৌসুমীও তাই। ওরও ভুল হতে পারে। এ রকম আমরা সবাই মানুষ। সমস্যা হয় যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়।’

এ প্রসঙ্গে মৌসুমীর একটি মন্তব্যও তুলে ধরেন সানী। তিনি বলেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’

মৌসুমীর সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বললেন ওমর সানী

তবে নানা আলোচনা-সমালোচনার পরও স্ত্রীর প্রতি নিজের অনুভূতি প্রকাশে কোনো রাখঢাক নেই ওমর সানীর। তিনি বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন-ফাইজার আম্মু-তোমাকে ভালোবাসি।’

দীর্ঘদিনের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগের বিকল্প নেই বলেও মনে করেন এই অভিনেতা। তার ভাষায়, ‘স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কটা হচ্ছে একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা, স্যাক্রিফাইজ করা। সেটা আমাদের মধ্যে আছে।’

মৌসুমীর বকাঝকা ও খেয়াল রাখার মধ্যেও যে ভালোবাসা খুঁজে পান, সেটিও জানান ওমর সানী। তিনি বলেন, ‘মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য আমাকে বকাটকা দেয়। বলে, তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ-দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই? এরপর আবার নিজেই বলবে-কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কীভাবে লাগবে, কী করতে চাও। সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী ভেরি কমফরট্যাবল।’

ওমর সানী ও মৌসুমীর সম্পর্কের শুরুটাও ছিল বেশ নাটকীয়। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মহরত অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় দুজনের। পরে পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি সিনেমার প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই প্রথম কথা হয় তাদের।

অন্য সিনেমার ব্যস্ততার কারণে সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি মৌসুমী। ফলে মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী।

১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ সিনেমায় প্রথমবার জুটি বাঁধেন তারা। সিলেটে ছবিটির শুটিংয়ের সময় দুজনের মধ্যে মনোমালিন্যও হয়েছিল। তবে সেই দূরত্বই ধীরে ধীরে বদলে যায় ভালো লাগায়।

মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ মুগ্ধ করে ওমর সানীকে। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে বিয়ে করেন তারা।

বিয়ের দেড় বছর পর ২ আগস্ট আয়োজন করা হয় বিবাহোত্তর সংবর্ধনার। এরপর কেটে গেছে তিন দশকেরও বেশি সময়। এই দীর্ঘ যাত্রায় অভিমান, আলোচনা ও নানা গুঞ্জন এলেও পাশাপাশি থাকার গল্প থামেনি। আর ওমর সানীর কথায়, তাদের সম্পর্কের সবচেয়ে বড় শক্তি একে অপরের প্রতি বিশ্বাস, ত্যাগ, বোঝাপড়া ও ভালোবাসা।

এমএমএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *