জজ মিয়া হত্যা: আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তিতে বেরিয়ে এলো যেসব তথ্য
রাজধানীর খিলগাঁওয়ে জিরানী খাল থেকে জজ মিয়ার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার আব্দুল্লাহ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আব্দুল্লাহর জবানবন্দির বরাতে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে জজ মিয়াকে বাড্ডার একটি গ্যারেজে ডেকে নিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তার মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় জিরানী খালে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালতে আব্দুল্লাহর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন পুলিশের উপপরিদর্শক মারুফুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।

পুলিশের উপপরিদর্শক মারুফুজ্জামান বলেন, আসামিকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. এরশাদ আলী। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আব্দুল্লাহকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আব্দুল্লাহর স্বীকারোক্তির বরাতে পুলিশ জানায়, পূর্ববিরোধের জেরে জজ মিয়াকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে তাকে বাড্ডার একটি গ্যারেজে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে আব্দুল্লাহসহ কয়েকজন তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। পরে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মরদেহ জিরানী খালে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে বাড্ডা থানার বাজার গলি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।
যেভাবে উদ্ধার হয় মরদেহ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে রামপুরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন জজ মিয়া। পরদিন বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে খিলগাঁও থানার ত্রিমোহনী বিশ্বরোড ওভারব্রিজের নিচে জিরানী খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহের বুকের বাম পাশ, পিঠ ও পেটে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এমডিএএ/এমএএইচ/

