September 7, 2026

ইসরায়েলে নেসেট নির্বাচন: ভোটের প্রচারণায় কাতারকে ‘শত্রু’ রাষ্ট্র আখ্যা

0
og_1788673390_6a9cfd6ee2e5f.jpeg


আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটি ইসরায়েলের প্রথম সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে গাজা যুদ্ধ , অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর চাপ ততই বাড়ছে। নির্বাচনের আগে এসব বিষয় প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে । তাই ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কাতার ও গাজায় মানবিক সহায়তার নামে হামাসের অর্থায়ন নিয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।

আই২৪নিউজ-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে, কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা স্বীকার করার পাশাপাশি তা সঠিক ছিল বলে অহংকার করেছেন নেতানিয়াহু। তবে, সাহায্যের নামে গাজায় পাঠানো কোটি কোটি ডলার অন্যত্র ব্যববহৃত হওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন।

ওই সাক্ষাৎকারে কাতারকে ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র আখ্যা দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি এবং বোমা মেরেছি। গাজায় চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণে কাতারের কোনো ক্ষমতা নেই।

সাক্ষাৎকারে গাজায় মানবিক সহায়তার জন্য কোটি কোটি ডলার পাঠানোর বিষয়েও নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। তিনি জানান, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য দেওয়া হয়েছিল। ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের তত্তবাধায়নে তা হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

তবে, নেতানিয়াহুর সমালোচকদের দাবি, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছে।

এদিকে, হামাসকে অর্থ দেওয়ার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে কাতার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ গত বছর দোহা ফোরামে বলেছিলেন, কাতারের অর্থ দিয়ে হামাসকে অর্থায়নের দাবি ভিত্তিহীন। কাতারের সব সহায়তা গাজার মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তা একটি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এ প্রক্রিয়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অবগত ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রায় এক বছর আগেই, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। সে সময় হামাসের নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন। তখন দোহায় ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল কাতার।

কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ওই হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলেও দাবি করেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস হামলাটিকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে নিন্দা জানান।

পরে ইরান ও পাকিস্তানসহ অঞ্চলটির কয়েকটি দেশও ওই হামলার নিন্দা জানায়। কাতারের প্রতি সংহতি জানাতে জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা দেশটিতে সফর করেছিলেন।

বিশ্লেষক ও সমালোচকদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন জোরদার করতে নেতানিয়াহু বারবার অন্যান্য দেশের সঙ্গে উত্তেজনা উসকে দিয়েছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

এমআরএইস/কেএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *