September 3, 2026

আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিক্ষাবৃত্তি, ক্ষুণ্ন হচ্ছে দেশের সুনাম

0
ww-mtkzx9rncblgrow-20260903100238.jpg


মাহাফুজুল হক চৌধুরী, আবুধাবি

সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিক্ষাবৃত্তি কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইনি বিধান অনুযায়ী, ভিক্ষা করতে গিয়ে ধরা পড়লে কারাদণ্ডসহ সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর নিয়ম রয়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও থেমে নেই বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের অনৈতিক এ তৎপরতা। সিরিয়া, মিশর, ফিলিস্তিন, সুদান ও ইয়েমেনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের একশ্রেণির নাগরিকও বর্তমানে এই ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়েছেন।

আমিরাত সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের নাগরিকদের ওপর নতুন ভিসা বন্ধ ও নিষেধাজ্ঞা আরোপের অন্যতম কারণ এই অনিয়ন্ত্রিত ভিক্ষাবৃত্তি।

দেশটিতে দীর্ঘদিন বসবাসরত এসব প্রবাসীদের একাংশের কর্মকাণ্ডের ফলে বিশ্ব দরবারে আরব আমিরাতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছে স্থানীয় প্রশাসন। এমনকি ছুটির উদ্দেশ্যে দেশে গেলে অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করার কঠোর পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধবিধ্বস্ত বা মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশের মানুষের বাধ্য হয়ে অনৈতিক কাজে জড়ানোর একটি প্রেক্ষাপট থাকলেও বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো দেশের নাগরিকদের এ পেশায় জড়ানোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অথচ অর্থনৈতিকভাবে আরও পিছিয়ে থাকা নেপাল কিংবা শ্রীলঙ্কার নাগরিকদের আমিরাতে কখনোই ভিক্ষাবৃত্তিতে লিপ্ত হতে দেখা যায় না।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, যেসব বাংলাদেশি এই কাজে লিপ্ত, তারা প্রায় সবাই বৈধ রেসিডেন্সি সুবিধা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আমিরাতে বসবাস করছেন। মূলত সাহায্য চাওয়ার আড়ালে ভিক্ষাবৃত্তিকে তারা লাভজনক পেশায় পরিণত করেছেন।

প্রতারণার কৌশল হিসেবে তারা কখনো মায়ের চিকিৎসা, বোনের বিয়ে, কিংবা স্ত্রী-সন্তানের অসুস্থতার কথা বলে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করেন।

আবার একশ্রেণির লোক মোল্লার ছদ্মবেশ ধারণ করে বিভিন্ন মাদরাসার নামে চাঁদা ও সাহায্য তুলতে দেখা যায়, যা বর্তমানে সেখানে এক ধরনের আশঙ্কাজনক মহামারি রূপ ধারণ করেছে।

আইন অমান্যকারী এসব প্রবাসীর দায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ প্রবাসীরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার সমালোচনা করে তারা জানান, আমিরাতে বাংলাদেশের ভিসা বন্ধ হওয়া নিয়ে নানা প্রশাসনিক আলোচনা হলেও, এসকল অপকর্মের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

গুটিকয়েক মানুষের এমন কর্মকাণ্ডে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত প্রায় ১০ লাখ সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসী চরম দুর্ভোগ ও ঝুঁকির মুখে পড়ছেন।

এমআরএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *