সম্পত্তিতে নারীর সমান অধিকার নিশ্চিতের দাবি
সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬-এর ১(গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার করে নারীর নাগরিক অধিকার ও সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নারী অধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সিডও দিবস উপলক্ষে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ‘সিডও সনদের ধারা-২ এবং ধারা-১৬, ১(গ) থেকে সংরক্ষণ প্রত্যাহার কর; নারীর নাগরিক অধিকার সুরক্ষায় সম্পদ-সম্পত্তিতে সমান অধিকার নিশ্চিত কর’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউএন উইমেন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট ও ইউনিট ম্যানেজার (জেন্ডার রেসপনসিভ গভর্ন্যান্স) তপতী সাহা এবং এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সভায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, সিডও সনদের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার দীর্ঘদিনের। সিডও শ্যাডো রিপোর্ট প্রণয়নে সরকার গুরুত্ব দেয়। সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোথায় ঘাটতি রয়েছে এবং কী অর্জন হয়েছে, তা চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আজকের দাবি আমি সংসদে তুলে ধরবো। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নারীর সমান অধিকার থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন।
তপতী সাহা বলেন, সব ধরনের বৈষম্য দূর করার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হলো সিডও। ২০১৬ সালে সিডও কমিটি বাংলাদেশের সংরক্ষিত দুটি ধারা পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারকে অনুরোধ করেছিল। আগামী বছর কমিটি আবার প্রতিবেদন দেবে, যেখানে গত ১০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র উঠে আসবে।
তিনি বলেন, এখনো সিডওর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। সিডওর জেনারেল রেকমেন্ডেশন-৪০ অনুযায়ী নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও অংশগ্রহণ ৫০:৫০ হওয়া উচিত। তাই শুধু অনুমোদন নয়, কাঠামোগত বাস্তবায়ন ও লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, চার দশকেও কেন সিডও বাস্তবায়ন হয়নি, তা বাস্তবতার আলোকে বিশ্লেষণ করতে হবে। সরকারের সদিচ্ছার পাশাপাশি সমাজের বাস্তবতাও বিবেচনায় নিয়ে বহুত্বকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয়ভাবে আলোচনা প্রয়োজন।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, জাতীয় সংসদে বৈষম্যবিরোধী আইন পাস হলে সিডওর এই দুটি ধারা সংরক্ষণ রাখার প্রয়োজন থাকবে না। সংরক্ষণ প্রত্যাহার হলে সরকারের কাজও সহজ হবে। সিডও বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশে একটি কার্যকর ‘ফোকাল পয়েন্ট’ থাকা প্রয়োজন।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, নারী-পুরুষের সমতা ও নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় সিডও গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রগতি হলেও বর্তমানে নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব ও সহিংসতা বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সিডওর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন জরুরি।
মুক্ত আলোচনায় রাশেদা কে চৌধুরী, কাশফিয়া ফিরোজ, সামিনা ইয়াসমিন, ফেরদৌসি সুলতানা, ডা. ফেরদৌস আরা, ফেরদৌস নাহিদ ও শামীমা শাম্মীসহ অনেকে বক্তব্য দেন। সভায় নাগরিক সমাজ, সামাজিক প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির নেতাকর্মী, কর্মকর্তা ও সাংবাদিকসহ প্রায় ৩০০ জন অংশ নেন।
ইএইচটি/ইএ


