September 10, 2026

সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন, গুজব-অপতথ্যে ১০ বছরের জেল

0
salauddin-mq5906c9dfnwjx8-20260608193030.jpg


সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রেখে সংশোধন হচ্ছে সাইবার সুরক্ষা আইন। এজন্য ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া করেছে সরকার। বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইনে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য এ ধরনের কোনো ধারা বা শাস্তির বিধান নেই।

বাড়ছে সাইবার অপরাধের পরিধি

সংশোধিত আইনের খসড়ায় বিভিন্ন সাইবার অপরাধের শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত তৈরি, সংরক্ষণ, প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকিকেও অপরাধের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত তথ্য-উপাত্তের বিষয় যুক্ত করা; কোম্পানির নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া এবং গুরুতর অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনাল ও অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

 

একই সঙ্গে খসড়া আইন অনুযায়ী অপতথ্য, গুজব, মানহানিকর ও অবমাননাকর কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতার পরিধি বাড়ানো এবং ব্লক করা কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার মতো পরিবর্তনও থাকছে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়া হচ্ছে

আইনের খসড়াটি চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নিচ্ছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনায় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে হওয়া ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ সংশোধনে গত ২৯ জুন একটি মন্ত্রিসভা কমিটিও গঠন করে দেওয়া হয়।

সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ার বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশিদ ভুঞা জাগো নিউজকে বলেন, ‘আজকে মিডিয়ার সঙ্গে আমাদের একটি প্রাথমিক মিটিং হয়েছে। আরও মিটিং হবে। বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আমরা বসব।’

তিনি বলেন, ‘এটার জন্য একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীকে প্রধান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, তথ্যমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ পাঁচ সদস্য নিয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি করা হয়েছে।’

‘তারা সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত একটি সাজেশন দেবেন, কীভাবে আইনটি সংশোধন করা যায়। এটা করার আগে আমরা কনসালটেশনের অংশ হিসেবে আজকে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন মনে করেছি। এজন্যই এটা শুরু করেছি। মিডিয়ার প্রতিনিধিরাও অনেক ধরনের রেকমেন্ডেশন তাৎক্ষণিকভাবে দিয়েছেন’ বলেন সচিব।

মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা

সাইবার স্পেস ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আইসিটি সচিব বলেন, ‘আমরা চাচ্ছি সবাই গঠনমূলকভাবে মতামত দেবেন। অবশ্যই আমরা মানুষের অধিকারকে গুরুত্ব দেব। কিন্তু যারা খুব খারাপভাবে এই সাইবার স্পেস ব্যবহার করে, মানুষের চরিত্রহনন থেকে শুরু করে, তাদের জন্য তো কিছু একটা করা দরকার।’

মামুনুর রশিদ বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? যাদেরকে এই সাইবার স্পেস, সাইবার বুলিংয়ের শিকার হতে হচ্ছে, বিশেষ করে নারীরা অনেক ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যাচ্ছেন। এগুলো বিবেচনা করেই এটা একটি ড্রাফট। আমরা আজকে আলাপটা শুরু করেছি।’

তিনি বলেন, ‘সব শেষে গিয়ে সব স্টেকহোল্ডার যারা আছেন, সবার সঙ্গে কথা বলে যেটা যুক্তিযুক্ত মনে হবে, সেটাই করা হবে। এখানে অনেক মানুষজন আছেন, সিনিয়র মানুষজন আছেন, বিজ্ঞ মানুষজন আছেন। সবাই মিলে যেটা যথোপযুক্ত হবে, সেটাই হয়তো শেষ পর্যন্ত করা হবে।’

আগের আইনে কণ্ঠরোধের অভিযোগও বিবেচনায়

আগের সাইবার আইন মানুষের কণ্ঠরোধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়েও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আইসিটি সচিব বলেন, ‘একটা বড় ধরনের অভিযোগ ছিল যে, এটা দিয়ে মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে। এগুলো যেন না হয়, কোনোভাবেই যেন না হয়, সে বিষয়েও আজকে আলোচনা হয়েছে। সে বিষয়েও সর্বোচ্চ লক্ষ্য রাখা হবে।’

গুজব ও অপতথ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড

প্রস্তাবিত আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে তার এ ধরনের কার্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়ায় ‘গুজব’ বলতে এমন কোনো অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য, সংবাদ বা দাবিকে বোঝানো হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি করে বা করার সম্ভাবনা রাখে।

অন্যদিকে ‘অপতথ্য’ বলতে এমন মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্যকে বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি, জনসাধারণ, প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রকে বিভ্রান্ত, প্রতারিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি, প্রকাশ বা প্রচার করা হয়।

মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন ও বুলিংও অপরাধের আওতায়

সংশোধিত আইনে বর্তমান আইনের তুলনায় অপরাধের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি শাস্তি দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বর্তমান আইনের ২৫ ধারায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত উপাদান ও সেক্সটর্শনের উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর বা ভীতি প্রদর্শক তথ্য-উপাত্ত তৈরি, সংরক্ষণ, প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকিকে অপরাধ হিসেবে ধরা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে এসব অপরাধের পাশাপাশি মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা এবং বুলিংয়ের উদ্দেশ্যে কোনো তথ্য-উপাত্ত তৈরি, সংরক্ষণ, প্রেরণ, প্রকাশ, প্রচার বা প্রকাশের হুমকিকেও অপরাধের আওতায় আনা হচ্ছে। মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন ও বুলিংয়ের সংজ্ঞাও যুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমান আইনে তথ্য, ভিডিও চিত্র, অডিও-ভিজ্যুয়াল চিত্র, স্থির চিত্র ও গ্রাফিকসের কথা থাকলেও প্রস্তাবিত আইনে আলাদাভাবে অডিও যুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত তথ্য-উপাত্তের বিষয়টিও রাখা হয়েছে।

শাস্তির ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান আইনে সাধারণ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে তা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর বিরুদ্ধে একই অপরাধের ক্ষেত্রে বর্তমান আইনে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। খসড়া আইনে এই শাস্তি বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।

কোম্পানির কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবে আদালত

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে কোম্পানির অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে নতুন একটি বিধান যুক্ত করা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি এ আইনের অধীন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে আদালত ওই কোম্পানির নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করার আদেশ দিতে পারবে।

বর্তমান আইনের ২৯ ধারায় কোম্পানি কর্তৃক অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মালিক, প্রধান নির্বাহী, পরিচালক, ম্যানেজার, সচিব, অংশীদার, কর্মকর্তা, কর্মচারী বা প্রতিনিধিকে দায়ী করার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে আইনগত ব্যক্তিসত্তাসম্পন্ন কোম্পানিকে আলাদাভাবে অভিযুক্ত ও দোষী সাব্যস্ত করে শুধু অর্থদণ্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কোম্পানির সংজ্ঞাও আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে কোম্পানি বলতে ‘কোম্পানি আইন, ১৯৯৪’-এর অধীনে গঠিত ও নিবন্ধিত কোম্পানির পাশাপাশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, অংশীদারি কারবার, সমিতি, সংঘ, সংগঠন, ট্রাস্ট, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা বা অন্য কোনো আইনগত ব্যক্তিসত্তাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গুরুতর অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, অন্যগুলো ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সাইবার আইনের সব অপরাধের বিচার আর সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে না। গুরুতর কয়েকটি অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করার বিধান রাখা হয়েছে।

রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কম্পিউটার অবকাঠামোয় হামলা বা ক্ষতিসাধন, সাইবার সন্ত্রাস, হ্যাকিং ও গুরুতর সাইবার অপরাধ, যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, ডিজিটাল শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অপরাধ, সেক্সটর্শন এবং সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রচারের মতো গুরুতর অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে।

অন্য অপরাধগুলোর বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব অপরাধ ‘মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯’-এর তফসিলভুক্ত হলে মোবাইল কোর্টেও বিচার করা যাবে।

এ ছাড়া সাইবার ট্রাইব্যুনালের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ট্রাইব্যুনালে এবং প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতে আপিল করা যাবে বলেও খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্য অবমুক্তির আবেদন করতে পারবেন সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ, স্থানান্তর বা ব্লক করার ক্ষেত্রে তিন দিনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নেওয়ার বাধ্যবাধকতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এর পরিবর্তে, এতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি এজেন্সি বা আদালতে তথ্য-উপাত্ত অবমুক্তির আবেদন করতে পারবেন। সরকার বা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে শুনানির সুযোগ দিয়ে এজেন্সি বা আদালত আবেদনটি নিষ্পত্তি করতে পারবে।

যার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার পাশাপাশি আইনগত প্রতিনিধি, অভিভাবক, পরিবারের সদস্য বা বৈধ স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ব্লক হওয়া কনটেন্ট প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাদ

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ব্লকের মূল বিধান অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে কোনো কনটেন্ট ব্লক করা হলে স্বচ্ছতার স্বার্থে সরকারকে সব ব্লক হওয়া কনটেন্টের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা বাদ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অপতথ্য, গুজব ও মানহানিকর কনটেন্ট ব্লকের সুযোগ বাড়ছে

খসড়া আইনে তথ্য অপসারণ বা ব্লকের ক্ষমতার পরিধিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমান আইনে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ ধরনের উদ্যোগ নিতে পারলেও প্রস্তাবিত আইনে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থা বা বাহিনীকে এই ক্ষমতার আওতায় আনা হচ্ছে।

এ ছাড়া ‘অপতথ্য বা গুজব’ এবং কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘মানহানিকর’ বা রাষ্ট্রের জন্য ‘অবমাননাকর’ তথ্যও অপসারণ, ব্লক বা স্থানান্তরের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের অখণ্ডতা, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা ও জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করার আশঙ্কা থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে খসড়া আইনে।

গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভাসূত্রে জানা গেছে, গণমাধ্যমসংশ্লিষ্টরা আওয়ামী লীগ আমলে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের মাধ্যমে যেভাবে গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছে, নতুন আইনের মাধ্যমে যাতে সেটি না হয়, সেই বিষয়ে জোর দিয়েছেন। খসড়া আইনে থাকা ‘মানহানি’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ শব্দগুলোর মাধ্যমে আইনটি অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও মত দেন তারা।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়ার বিধানও খসড়া থেকে বাদ দেওয়ার অনুরোধ জানান গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরা।

সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে এমন কোনো শব্দ বা বিধান রাখা হবে না, যার অপব্যবহার করে গণমাধ্যম বা অন্য কারও কণ্ঠ দমন করা যায়।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে আবার সভা হবে বলে জানিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।

আরএমএম/এসএইচএস



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *