September 5, 2026

রংপুরে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ দেখতে মানুষের ঢল

0
og_1788614251_6a9c166b5eec1.jpeg


​গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে রংপুর নগরীর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেন নগরের ঘাঘট নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। 
 
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুরু হয় এ প্রতিযোগিতা। গ্রামীণ এ ঐতিহ্যকে উপভোগ করতে নদীর দুই তীরে শত শত মানুষের উপচেপড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
 
ঐতিহ্যবাহী  নৌকা বাইচ উৎসবে রংপুর, নীলফামারী ও কুড়িগ্রামসহ আশপাশের জেলা থেকে আগত মাঝি-মাল্লাদের আটটি দল অংশ নেয়।
 
​স্থানীয় হোসেন নগর যুব সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষ, শিশুসহ সব বয়সের মানুষ ঘাঘট নদীর তীরে সমবেত হন। নদীর পাড় এবং গাছের ডালে বসে দর্শনার্থীরা খেলা উপভোগ করেন।
 
​প্রতিযোগীদের উৎসাহব্যঞ্জক গান আর বাইচ দলের তরুণদের সুসংহত বৈঠার ছন্দে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো নদীর তীর। বিশেষ করে প্রতিযোগিতার শেষ মুহূর্তে দলগুলোর গতি আর উত্তেজনায় দর্শকদের মাঝে অন্যরকম উন্মাদনা কাজ করে। নদীমাতৃক বাংলার এই প্রাচীন সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয় এবং বিনোদনের  সুস্থ খোরাক জোগাতে প্রতিবছরই স্থানীয়ভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। 
 
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ইউনিয়ন থেকে আসা মাঝি নুরুল ইসলাম বলেন, গত ১৫ বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেই। এবার প্রথমবারের মতো রংপুরে এ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি। ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা যেন হারিয়ে না যায় সেজন্য প্রতি বছর এমন আয়োজন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
 
এ দিন নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে মেলা। এতে হাজারও মানুষের সমাগম হয়। তবে রঙ-বেরঙে সাজানো দৃষ্টিনন্দন নৌকা আর মাঝি-মাল্লাদের সুর নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। আগামীতে আরও বড় পরিসরে নৌকা বাইচ উৎসবের দাবি জানান দর্শনার্থীসহ স্থানীয়রা।
 
নৌকা বাইচ দেখতে আসা রাব্বী হাসান বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশনের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডটি আগে তামপাট ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল। এটি বর্তমানে রংপুর সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা। এটিসহ আশপাশের ওয়ার্ডগুলোতে বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। প্রতি বছর নৌকা বাইচ বিনোদনপ্রেমীদের মনের খোরাক যোগায়। এমন ঐহিত্যবাহী উৎসব দেখতে পেরে সকলে আনন্দিত। এমন আয়োজন যেন আরও বড় পরিসরে হয়।  
 
আয়োজকরা বলছেন, আগে নদীকে বাঁচানোর উদ্যোগ নিতে হবে। নদী না বাঁচলে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ হারিয়ে যাবে। হারিয়ে যাবে নদী কেন্দ্রীক ঐতিহ্য, পেশা, জীবন ও প্রকৃতি। দ্রুত তিস্তা, ঘাঘট, যমুনেশ্বরী, আখিরা, করতোয়া ও শ্যামাসুন্দরীসহ সব নদ-নদী ও খাল খনন, শাসন ও সঠিক পরিচর্যার দাবি জানিয়েছেন তারা।
 
আয়োজক কমিটির সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ জানান, ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ঘাঘটে নৌকা বাইচ হয়ে আসছে। গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে হোসেননগর যুব সমাজ এ নৌকা বাইচের আয়োজন করেছে। ​আগামীকাল প্রতিযোগিতার ফাইনাল শেষে বিজয়ী দলগুলোর মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।   
 
জিতু কবীর/এএইচ 
 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *