ব্যাংকের উপশাখায় আমানত বাড়লেও কমেছে ঋণ বিতরণ
দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উপশাখায় আমানত বাড়লেও ঋণ বিতরণ কমেছে। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে উপশাখাগুলোতে আমানত বেড়েছে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। বিপরীতে ঋণের স্থিতি কমেছে ৭ দশমিক ৭ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রকাশিত তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখার পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ শেষে ব্যাংকগুলোর উপশাখায় আমানতের স্থিতি ছিল ৭৯ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ২৬৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে উপশাখাগুলোতে আমানত বেড়েছে ৪ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
জুন শেষে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ লাখ ১০ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা। মার্চ শেষে এ পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ৫৮ হাজার ২৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে তিন মাসে পুরো ব্যাংক খাতে আমানত বেড়েছে ৫২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা বা ২ দশমিক ৪ শতাংশ।
অর্থাৎ, ব্যাংক খাতের সামগ্রিক আমানত বৃদ্ধির তুলনায় উপশাখাগুলোতে আমানত বৃদ্ধির হার বেশি। বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট আমানতের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছে উপশাখাগুলোতে।
কমেছে ঋণের স্থিতি
আমানত সংগ্রহে প্রবৃদ্ধি থাকলেও উপশাখাগুলোতে ঋণ বিতরণের চিত্র ভিন্ন। মার্চ শেষে উপশাখাগুলোর ঋণের স্থিতি ছিল ২২ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা। জুন শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬০২ কোটি টাকা।
এ হিসেবে তিন মাসে উপশাখাগুলোর ঋণের স্থিতি কমেছে ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে, পুরো ব্যাংক খাতে এ সময়ে ঋণের স্থিতি বেড়েছে। মার্চ শেষে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের স্থিতি ছিল ১৭ লাখ ৮৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৮ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, তিন মাসে মোট ঋণের স্থিতি বেড়েছে ১ দশমিক ৪ শতাংশ।
বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট ঋণের মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ রয়েছে উপশাখাগুলোতে।
বেড়েছে উপশাখা ও হিসাব
এদিকে ব্যাংকগুলোর উপশাখার সংখ্যাও বাড়ছে। মার্চ শেষে তফসিলি ব্যাংকগুলোর উপশাখা ছিল ৪ হাজার ৯৯২টি। জুন শেষে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩টিতে। অর্থাৎ, তিন মাসে নতুন করে ৪১টি উপশাখা চালু হয়েছে।
উপশাখায় গ্রাহকের হিসাব খোলার প্রবণতাও বেড়েছে। মার্চ শেষে এসব উপশাখায় মোট হিসাব ছিল ৮৪ লাখ ৭৩ হাজার ৬৯৭টি। জুন শেষে হিসাবের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ লাখ ৬৯ হাজার ১৯৮টি। ফলে তিন মাসে হিসাব বেড়েছে ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০১টি।
উপশাখায় থাকা মোট হিসাবের মধ্যে নারীদের হিসাবের অংশ ৩৮ দশমিক ৪ শতাংশ।
ইএআর/এএমএ

