দল থেকে বাদ পড়েই ট্রিপল সেঞ্চুরি দিয়ে জবাব পাকিস্তানি তারকার
ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়েছিলেন সালমান আলি আগা। প্রথম টেস্টে নেতৃত্ব দিয়েও দ্বিতীয় টেস্টে জায়গা হারান তিনি। এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে আরও ছয় ক্রিকেটারের সঙ্গে তাকে দেশে ফেরত পাঠায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
তবে মাঠের বাইরে বসে থাকার পথ বেছে নেননি পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার। দেশে ফিরে ব্যাট হাতে দিয়েছেন দারুণ এক জবাব। প্রেসিডেন্টস ট্রফি গ্রেড-১-এ কিংসমেন একাডেমির হয়ে মার্কহোর আইটি সলিউশন্সের বিপক্ষে খেলতে নেমে করেছেন ট্রিপল সেঞ্চুরি।
দল যখন মাত্র ৭২ রানে হারিয়ে ফেলেছিল ৩ উইকেট, তখন ব্যাট হাতে হাল ধরেন সালমান। এরপর প্রতিপক্ষের বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে ৩৩৬ বলে পূর্ণ করেন ট্রিপল সেঞ্চুরি। ইংল্যান্ড সফর থেকে বাদ পড়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এমন ইনিংস দিয়ে সালমান যেন বুঝিয়ে দিলেন, তার ব্যাট এখনো কথা বলতে প্রস্তুত।
কিংসমেন একাডেমি বিপাকে পড়েছিল শুরুতেই। মাত্র ৭২ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলের ইনিংসকে টেনে তোলার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সালমান। ধৈর্য ও আগ্রাসনের দারুণ সমন্বয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। একপর্যায়ে সেটি রূপ নেয় বিশাল ব্যক্তিগত মাইলফলকে। ৩৩৬ বল মোকাবিলা করে তিনশ রানের ঘর স্পর্শ করেন সালমান।
পাকিস্তান ক্রিকেটের সাম্প্রতিক অস্থিরতার মধ্যে তার এই ইনিংস তাই আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর অনেকটা সময়ই ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে। সালমান অবশ্য তার উত্তর দিয়েছেন সরাসরি ব্যাট দিয়ে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। লিডসে প্রথম টেস্ট এবং লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্ট- দুটিতেই বড় ব্যবধানে হেরে যায় পাকিস্তান। এরপরই বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় পিসিবি। তৃতীয় টেস্টের আগে একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে সরিয়ে দেশে পাঠানো হয়।
তাদের মধ্যে ছিলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আলি আগা, আলি উসমান, আমির জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ।
শুধু ক্রিকেটার নয়, সফররত দলের কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়। টেস্ট দলের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ এবং বোলিং কোচ উমর গুলকেও ইংল্যান্ড সফর থেকে সরিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হয়। তৃতীয় টেস্টের জন্য তাদের জায়গায় সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকে দায়িত্ব নেন।
পিসিবির এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বোর্ড চেয়ারম্যান মহসিন নকভি বলেছেন, তাদের হাতে অন্য কোনো পথ ছিল না। জিও নেটওয়ার্ককে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, সিরিজের প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খেলোয়াড় পারফর্ম করতে না পারলে তার বিকল্প খুঁজে নেওয়া ছাড়া বোর্ডের আর কোনো উপায় থাকে না।
সালমানের প্রসঙ্গ টেনে নকভি বলেন, তিনি ভালো খেলোয়াড় হলেও কোনো কারণে নিজের সেরা পারফরম্যান্স দিতে পারেননি এবং বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে কথাও বলা হয়েছিল।
তবে নকভির বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য কোনো ক্রিকেটারকে জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া নয়। বরং যারা পারফর্ম করতে পারছেন না, তাদের জায়গায় অন্যদের সুযোগ দেওয়াই ছিল সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
আইএইচএস/
