August 30, 2026

খুলনায় কমেছে সবজির দাম, চড়া মাছের বাজার

0
cocktail-khulna-mtdf7f4d0f40c0z-20260829024724.jpg


লাগামহীন দাম বৃদ্ধির পর এবার খুলনার বাজারে দাম কমেছে সবজির। তবে মাছের বাজার এখনো রয়েছে চড়া। কাঁচামরিচ একলাফে কমে ৭০-৮০ টাকা কেজি হয়েছে। যা গত সপ্তাহেও ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যান্য সবজির দাম কেজিতে কমেছে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত। তবে সরবরাহ কম থাকায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে মাছ।

রোববার (৩০ আগস্ট) খুলনা মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়া, নিউ মার্কেট ও জোড়াকল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, গোল বেগুন ৬০-৭০ টাকা, করলা ৭০-৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কচুর লতি ৩০-৪০ টাকা, ধুন্দল ৪০-৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৪০-৫০ টাকা, বড় রসুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং আলু বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা আর কাঁচা মরিচ প্রকারভেদে ৭০-৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে লাউ প্রতি পিস দাম কমে ৩০-৪০ টাকা এবং চাল কুমড়া প্রতিটি ৩০-৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি ২৪০ ও লেয়ার ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গরুর মাংস ৭৫০ এবং খাসির মাংস ১১৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে রুই আকারভেদে ২৬০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি, ভেটকি মাছ আকারভেদে ৫০০ থেকে ৬০০, চন্দনা ইলিশ ২৭০ থেকে ৩০০, পাবদা মাছ ৩৫০ থেকে ৪০০, চিংড়ি ৬৫০ থেকে ৮০০, তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০, পাঙাশ ২০০ থেকে ২২০, কাতল ২৪০ থেকে ২৫০, ট্যাংরা মাছ ৬০০ থেকে ৬৫০ এবং ছোট মাছ ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারের সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটা কমেছে। গত কয়েক সপ্তাহে সবজির দাম অনেকটা বৃদ্ধি পেয়েছিলো। সরবরাহ না থাকাতে সবজির দাম বেড়েছিলো। তবে সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে কাঁচা মরিচের দাম কমে ১০০ টাকার নিচে চলে এসেছে। তবে সামনে আরও দাম কমে যাবে।

নিউমার্কেট বাজারের সবজি ব্যবসায়ী বজলু মিয়া বলেন, গত কয়েকদিনে সবজির অতিরিক্ত দাম ছিলো। বিক্রিও কমে গেছে। কিন্তু সবজির সরবরাহ বাজারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম অনেকটা কমে গেছে। কাঁচামরিচ গত কয়েকদিনে ১০০ গ্রামও বিক্রি করেছি। তবে দাম কমায় বিক্রি বেড়েছে।

মিস্ত্রিপাড়া বাজারের খুচরা সবজি বিক্রেতা হাফিজ মোল্যা বলেন, সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা পর্যন্ত কমে গেছে। বাজারে সবজি উঠতে শুরু করেছে। সামনে আরও দাম কমে যাবে। তবে বৃষ্টি শুরু হলে আবার দাম বৃদ্ধি পেতে পারে।

মিস্ত্রিপাড়া বাজারের মাছ বিক্রেতা এমাদুল হক বলেন, বাজারে মাছের ঘাটতি আছে। এজন্য দাম বেড়েছে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমতে শুরু করবে। তবে ঘেরের মাছের দাম অনেক বেশী। মাছের ফিডের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঘেরের মাছের দাম মূলত বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপর পরিবহন খরচ আগের থেকে অনেক বেড়েছে। দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রিও কমেছে। তবে বাজারে মাছের সরবরাহ বাড়লে দাম তুলনামূলক কমে যাবে।

বাজারে আসা ক্রেতা সজিব হোসেন বলেন, বাজারে মাছ আর সবজির প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিযোগিতায় মাছের দাম সবসময় এগিয়েই থাকে। তবে এ সপ্তাহে সবজির দাম অনেক কমেছে। কাঁচামরিচের দামও কমেছে অনেক। কিন্তু সবজির দাম আরেকটু কমলে আমাদের সুবিধা হয়। আর মাছে তো হাত দেওয়া যায় না। বাড়তি দামে আমাদের মতো ক্রেতাদের চাপে থাকতে হয়।

বাজারে আসা ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, সবজির দাম কমাতে আগের থেকে বাজারে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। তবে পেঁপে, কুমড়া এবং পটোল জাতীয় সবজির দাম এখনো আগের মতো আছে। আগে কেজি ছিলো ৪০ টাকা, এখন ৩৫ টাকা। হুট করে দেখা গেলো আবার হয়ে গেলো কেজি ৫০ টাকা। দাম কমলেও আতঙ্ক আছে দাম নিয়ে। আর মাছের বাজারে তো তেলাপিয়া আর পাঙাশ মাছের দামও ২০০ টাকার নিচে নেই।

আরিফুর রহমান/এসজেডএইচ/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *