ক্যানভাসে জুলাইয়ের স্মৃতি, ডাকসুতে ২৮০ শিল্পকর্ম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) উদ্যোগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও চেতনাকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরতে ‘ক্যালিগ্রাফি অ্যান্ড আর্ট’ এবং ‘জুলাই গ্রাফিতি কম্পিটিশন অ্যান্ড এক্সিবিশন ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ২৮০টির বেশি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সেরা ১২ শিল্পীকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা পর্যন্ত ডাকসু প্রাঙ্গণে এ প্রদর্শনী হয়। আয়োজনটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না ও আফসানা আকতার।
আয়োজনে দুটি পৃথক ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতা হয়। প্রতিটি ক্যাটাগরির প্রথম পাঁচজন বিজয়ীকে ক্রেস্ট, প্রাইজমানি ও সনদপত্র দেওয়া হয়। পাশাপাশি শিশু অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে দুজনকে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব শিল্পীকে সম্মাননা হিসেবে সনদপত্র দেওয়া হয়েছে।
প্রদর্শনীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বিভিন্ন মুহূর্ত, আত্মত্যাগ, মানুষের প্রত্যাশা ও আন্দোলনের নানা দৃশ্যের পাশাপাশি সমকালীন বাংলাদেশের বিভিন্ন চিত্র উঠে আসে। ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতির মাধ্যমে শিল্পীরা নিজেদের অনুভূতি ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, চিত্রকর ও দিগন্ত টিভির সাবেক পরিচালক ফরিদি নোমান, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ এবং আলোকচিত্রশিল্পী, সাংবাদিক, লেখক, শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী শহিদুল আলম।
ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, আত্মত্যাগ ও আন্দোলনের বিভিন্ন মুহূর্ত শিল্পীদের ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে। ক্যালিগ্রাফি, চিত্রকর্ম ও গ্রাফিতির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জুলাইয়ের অনুভূতি, প্রত্যাশা ও ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো তুলে ধরেছেন।
ডাকসুর ভিপি আবু সাদেক কায়েম বলেন, শিল্প মানুষের মনের কথা প্রকাশের শক্তিশালী মাধ্যম। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগ, প্রত্যাশা ও মানুষের আকাঙ্ক্ষা যখন শিল্পীদের তুলিতে উঠে আসে, তখন তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক দলিল হয়ে থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে ডাকসু এ ধরনের সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত রাখতে চায়।
ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। তরুণরা সেই সময়ের বিভিন্ন মুহূর্ত ও অভিজ্ঞতা প্রত্যক্ষভাবে ধারণ করেছেন। তাদের সেই অনুভূতিকে ক্যানভাস, ক্যালিগ্রাফি ও গ্রাফিতির মাধ্যমে প্রকাশের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন পরিচালক মাবরুর রশিদ বান্নাহ বলেন, একটি সময়কে বোঝার জন্য শুধু লিখিত ইতিহাস যথেষ্ট নয়; সেই সময়ের মানুষের অনুভূতি, দৃশ্য ও অভিজ্ঞতাও সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। জুলাইয়ের ঘটনাগুলো শিল্পীরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, ভবিষ্যতে এ সময়কে বুঝতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি শহিদুল আলম বলেন, জুলাইয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়কে শিল্পের মাধ্যমে নথিবদ্ধ করা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একটি ছবি অনেক সময় দীর্ঘ বর্ণনার চেয়েও শক্তিশালীভাবে একটি সময়ের বাস্তবতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারে। এ ধরনের প্রদর্শনী স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করে।
সংসদ সদস্য ড. মো. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে শুধু অতীতের স্মৃতিচারণ নয়, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে তরুণদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। প্রদর্শনীতে তরুণদের সৃজনশীলতার যে প্রকাশ ঘটেছে, তা বৈষম্যহীন ও সুন্দর সমাজ গঠনের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে এনেছে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডাকসুর স্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মিনহাজ। এ সময় ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, আন্তর্জাতিক সম্পাদক জসিমউদ্দীন খান (খান জসিম), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইকবাল হায়দার, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলামসহ ডাকসু ও বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরটি/এমআইএইচএস
