এদেশ থেকে দুর্নীতি কেয়ামত পর্যন্ত যাবে না: মাহবুব কবীর মিলন
সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি করে দুর্নীতি রোধের চিন্তা হাস্যকর। অসৎ কর্মকর্তাদের বেতন মাসে দশ লাখ টাকা করলেও তারা অনৈতিক উপার্জন ছাড়বে না। তবে রাষ্ট্রযন্ত্রের ১ থেকে ২ শতাংশ সৎ কর্মচারীর অন্তত একটু স্বস্তিতে জীবন-যাপনের সুযোগ তৈরি করতে সময়ে সময়ে বেতন বাড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বুধবার (০২ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব কবীর মিলন এসব কথা লেখেন।
তিনি লেখেন, ‘বেতন বৃদ্ধি হল অনেক। এতে সৎ মানুষগুলোর উপকার হবে বেশ। একটু শান্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে তারা। একজন সৎ মানুষের উপকারের জন্য যদি নিরানব্বই জন অসৎ এর কিছু লাভ হয়, তবুও সেটা করতে হবে। এটাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব। অসৎ মানুষকে সৎ বানানো বা দুর্নীতি দূর করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

মো. মাহবুব কবীর মিলন, ‘একজন ঘুষখোরের বেতন মাসে দশ লাখ টাকা হলেও সে এক টাকা ঘুষ ছাড়বে না। কোনো রেকর্ড নেই। এক ডিপার্টমেন্টের পরিচিত দুইজন কর্মকর্তার সাথে ট্রেনে ভ্রমণ করছি। দেখলাম দুইজনের মন খারাপ খুব। তাদের আভ্যন্তরীণ দুটি দপ্তর মার্জ হয়ে যাওয়া এবং অটোমেশনের কারণে বেশি ঘুষের উইং থেকে একেবারে নেই ঘুষের দপ্তরে তাদের দুইজনের পোস্টিং হয়েছে।’
‘আপনাদের মন এত খারাপ কেন চাচা? আর বলনা ভাতিজা। আগে ছিল দিনে ৩/৪, এখন দুই তিন হাজার। আমি একটু চুপ থেকে বুঝার চেষ্টা করলাম। দুই তিন হাজার হলেও তো মাসে ৬০/৯০ হাজার টাকা উপরি ইনকাম। মন্দ কী!!’
তিনি লেখেন, ‘এতেই মন খারাপ কেন এত চাচা? আগে নাহয় এক লাখ বা এক লাখ বিশ পচিশ হাজার হত, এখন নাহয় কিছু কমেছে। সাথে বেতন পান। চাকরির ১৫/২০ বছর হয়ে গেছে। মন খারাপের তো কিছু দেখছি না আপনাদের!!’
পোস্টে সাবেক এই সচিব লেখেন, ‘চাচা আগে ৩/৪ হাজার নয়, ওটা ৩/৪ লাখ ছিল প্রতিদিন। ওনারা আরও মন খারাপ করে জানালেন আমাকে। এমন এক সময় ছিল, যখন অনেক কর্মকর্তাকে জানি, যাদের প্রতিদিনের ঘুষ ছিল কমপক্ষে এক কোটি টাকা। একের পর সাত শূন্য। পাঁচ কোটি ছিল এভারেজ প্রতিদিন।’
‘তো বেতন বৃদ্ধি হলে দুর্নীতি কমবে, এর চেয়ে হাস্যকর জোকস আর জগতে দ্বিতীয়টি নেই। একমাত্র মৃত্যু এবং চাকুরি হতে অবসরের দিন অফিস শেষে বাসায় ফেরার সময় এদের ঘুষ বন্ধ হয়। যদিও পরের দিন পাওনা ঘুষের টাকার খোঁজে বের হতে হয় এদের।’
তিনি লেখেন, ‘তো কী করবেন!! সে জন্য বেতন বৃদ্ধি করবেন না!! ২/১% সৎ লোক মরবে!! শতভাগ নামাজির দেশে প্রায় শতভাগ দুর্নীতিবাজ। মুমিন এবং সৎ কর্মশীল নাহলে সারাজীবন পশ্চিমে সেজদায় পড়ে থাকলেও লাভ হবে না।’
‘আর সেজন্যই এই দেশে ১০০% মিথ্যাবাদী, ৯৯% দুর্নীতিবাজ, ১০০% অন্যের হক নষ্টকারী, ১০০% খাদ্যে ভেজালকারী, ১০০% গীবতকারী, ১০০% হিংসুক, ১০০% উশৃংখল, ১০০% উগ্র……..!!’
এদেশ থেকে দুর্নীতি কেয়ামত পর্যন্ত যাবে না। তো ২/১% সৎ লোকের জন্য সময় সময় বেতন বৃদ্ধি করতেই হবে।
এমআরএম

