September 7, 2026

ইতালিতে অবৈধ যাত্রা ঠেকাতে ওয়ার্কশপ হবে

0
og_1788763945_6a9e5f2967a79.jpeg


বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর ও ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, ইতালিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি জনশক্তি শরীয়তপুর ও মাদারীপুর এলাকার। সেখানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এসব অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার বলে রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘উনি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন যে, অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়, যা খুবই দুঃখজনক।’

ইতালি এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে একটি ওয়ার্কশপ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যেন শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সামনে নিয়ে উনাদের এবং আমরা যৌথভাবে একটা ওয়ার্কশপ করে মানুষকে যাতে বোঝাই যে, আপনাদের অবৈধভাবে যাওয়ার দরকার নেই। আপনাদের যেহেতু পরিবার-পরিজন থাকে, বৈধভাবে যাওয়ারও সুযোগ আছে। এই সুযোগটা যেন তারা কাজে লাগায়।’

ইতালির রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘ওখানে উনি বললেন যে প্রায় আড়াই লক্ষ বাংলাদেশি এখন বর্তমানে ওখানে বসবাস করে এবং তার সিংহভাগ হচ্ছে শরীয়তপুর, মাদারীপুর।’

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রীও প্রয়োজন হলে নিজে গিয়ে মানুষকে সচেতন করার কথা জানিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত অবৈধ পথে বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়ার বিষয়টিকে মানবিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে সমুদ্রপথে যেতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর বিষয়েও তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘উনি বললেন যে এটা আমাদের জন্য কষ্ট হয়, তারা কষ্ট পায়, অনেক সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় রাস্তার মধ্যে। বলছেন, এভাবে যাওয়ার দরকার নেই; আমাদের দেশে যেহেতু বৈধভাবে আমরা শ্রমিক নেই, যাওয়ার যেহেতু সুযোগ রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত অবৈধভাবে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব ব্যক্তিকে ‘অবৈধ এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালিতে বাংলাদেশিদের বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘উনি (রাষ্ট্রদূত) বললেন যে, আমাদের দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে এবং ফ্যামিলিসহ আরও ১২ হাজার। তাহলে এত বড় একটা সুযোগ, উনি বললেন যে এটা তোমরা কাজে লাগাতে পারো এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্কশপ করো।’

রাষ্ট্রদূত আরও বলেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়ার সুযোগ সবসময়ই রয়েছে। প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি নেওয়া সম্ভব হলেও সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। তবে আগ্রহীদের বৈধ পথে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

আরএমএম/এসএনআর

 



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *