September 9, 2026

রিজার্ভের অর্থ বিনিয়োগে ১২ হাজার কোটি টাকা আয় বাংলাদেশ ব্যাংকের

0
koro4-mtpmpn2skupzpe6-20260906154937.jpg


বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করে গত অর্থবছরে ১২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা সুদ আয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত তিন অর্থবছরের মধ্যে এটিই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বোচ্চ বৈদেশিক বিনিয়োগ আয়। মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি সুদহার ও কুপন রেটের কারণে এ অর্জন বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক বিবরণী অনুযায়ী, বৈদেশিক বন্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি নোটে বিনিয়োগ থেকে গত অর্থবছরে ৫ হাজার ৬১১ কোটি টাকা সুদ আয় হয়েছে। বিদেশি ব্যাংকে রাখা ঋণ ও আমানত থেকেও আয় এসেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া ঋণ থেকে ২ হাজার ৮৫৬ কোটি এবং স্বল্পমেয়াদি আমানত থেকে ২ হাজার ৭২৫ কোটি টাকা আয় পাওয়া গেছে। অন্যান্য বৈদেশিক সম্পদ থেকে এসেছে আরও প্রায় ৮৭১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক মুদ্রায় থাকা আর্থিক সম্পদ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আয় হয়েছিল ৭ হাজার ৭০৩ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এ আয় ছিল ৬ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাধারণত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সরকারি বন্ড, সিকিউরিটিজ ও বিভিন্ন ব্যাংকে আমানত হিসেবে বিনিয়োগ করে। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক সুদহার তুলনামূলক বেশি থাকায় এসব বিনিয়োগ থেকে রিটার্নও বেড়েছে।

অভ্যন্তরীণ খাতেও বড় আয়

রিজার্ভ বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ও বাণিজ্যিক ব্যাংককে তারল্য সহায়তা দিয়েও আয় করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত অর্থবছরে এমন অভ্যন্তরীণ খাত থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আয় হয়েছে ২২ হাজার ৬৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংকগুলোকে ঋণ দিয়ে সুদ হিসেবে এসেছে ২১ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা।

এছাড়া কমিশন ও ডিসকাউন্ট থেকে ৪৩১ কোটি, লভ্যাংশ হিসেবে ২০০ কোটি এবং অন্যান্য খাত থেকে ৪৭৫ কোটি টাকা আয় করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতের আয় ছিল আরও বেশি, ২৪ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে গত অর্থবছরের পুরো সময় নীতিসুদহার ১০ শতাংশে রাখা হয়েছিল। ফলে ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উচ্চ সুদে অর্থ নিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদ আয় বেড়েছে।

নিট মুনাফা ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা

সব মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের মোট পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ১৬ কোটি টাকা। বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে নিট মুনাফা হয়েছে ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকার চেয়ে ৩ হাজার ৩৫৭ কোটি টাকা বেশি।

জানা গেছে, গত অর্থবছরের নিট মুনাফার পুরো ২৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে এবং বাকি ১৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা সম্প্রতি জমা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ৮ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা।

বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রস রিজার্ভ রয়েছে ৩১ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন ডলার।

ইএআর/একিউএফ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *