September 4, 2026

কারারক্ষী-আইনজীবী পরিচয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিতো চক্রটি, গ্রেফতার দুই

0
og_1788517749_6a9a9d75b06ac.jpeg


কারারক্ষী ও আইনজীবীর ছদ্মবেশ ধারণ করে অভিনব কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলো মোঃ আব্দুস সালাম (৪৯) ও সুরুজ (২৬)।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এ তথ্য জানান। 

ডিবির বরাত দিয়ে আকতার হোসেন বলেন, গ্রেফতাররা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। পরে ওই জনপ্রতিনিধিদের ফোন করে কৌশলে সংশ্লিষ্ট এলাকার আসামিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করত তারা। এরপর আসামিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজেদের একজনকে ‘কারারক্ষী সাইফুল, কারাগার প্রধান ফটক, কাশিমপুর কারাগার’ হিসেবে পরিচয় দিত। পরিবারের সদস্যদের জানানো হতো, তাদের নিকটাত্মীয়ের জামিন নির্ধারিত আইনজীবীর মাধ্যমে নয়, বরং মানবাধিকার সংস্থার আইনজীবী ‘সিরাজ’ এর মাধ্যমে হয়েছে।

এ সময় আইনজীবী পরিচয়ে কথা বলার জন্য প্রতারক চক্রের অপর সদস্যের একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হতো। ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে ফোন করলে প্রতারক নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে নরম স্বরে কথা বলত এবং জানাত, আসামির জামিন হয়েছে। আদালতের অন্যান্য প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং তার হাতে সময় কম। এরপর ভুক্তভোগীদের কাছাকাছি কোনো দোকানের বিকাশ পার্সোনাল নম্বরে টাকা পাঠাতে বলা হতো। পরিবারের সদস্যরা ওই নম্বরে টাকা পাঠানোর পর প্রতারক টাকা তুলে নিয়ে মোবাইল নম্বরটি বন্ধ করে দিত এবং মুহূর্তের মধ্যে দোকানের এলাকা থেকে সরে পড়ত।

ডিবির বরাতে তিনি আরও বলেন, গত ১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় হওয়া বিকাশ/নগদ প্রতারণার মামলা তদন্তের সময় এই অভিনব প্রতারণার বিষয়টি ডিবি পুলিশের নজরে আসে। পরবর্তীতে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকালে ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করে। এমময় তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতার এবং প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া অর্থ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

কেআর/জেএইচ



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *