September 13, 2026

সংস্কার শেষে উদ্বোধন ডাকসুর সংগ্রহশালা, থাকছে ইতিহাসের দুর্লভ স্মৃতি

0
du2-20260913213220.jpg


সংস্কার শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালা। দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ডাকসুর বিভিন্ন সময়ের কার্যক্রম, আন্দোলন-সংগ্রাম ও ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণের লক্ষ্যেই সংগ্রহশালাটির সংস্কার করা হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় সংস্কারকাজ শেষে সংগ্রহশালাটির উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। সংস্কার কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এইচ এম মোশারফ হোসেন, জিএস এস. এম. ফরহাদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. শরিফুল ইসলাম, ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, ক্যারিয়ার উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের কন্যা ফারজানা আলম ও তার পরিবারের সদস্যরা, ডাকসু ও হল সংসদের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

jagonews24

সংস্কার প্রসঙ্গে ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের ইতিহাসের সঙ্গে ডাকসুর ইতিহাস গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে ডাকসু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এসব কর্মকাণ্ডের অনেক স্মৃতি ও নিদর্শন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল।

তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সংগ্রহশালাটি দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিকে আধুনিক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সংস্কারকাজ শেষে আজ এটি উদ্বোধন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আগামী এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সংগ্রহশালায় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল সংযোজন করা হবে। শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবময় কর্মকাণ্ডও এখানে স্থান পেয়েছে। সময়ের সঙ্গে নতুন নতুন উপকরণ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে থাকা পুরোনো ছবি, নথি, প্রকাশনা, পোস্টার, স্মারক ও অন্যান্য ঐতিহাসিক উপকরণ সংগ্রহ করে পর্যায়ক্রমে সংগ্রহশালায় যুক্ত করা হবে বলেও জানান জুমা।

ডাকসুর সাবেক ভিপি বদরুল আলমের (১৯৫৭-৫৮ সেশন) কন্যা ফারজানা আলম বলেন, কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রভাব ছাড়াই ১৯৫৭ সাল থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত ইতিহাস ও তথ্য-উপাত্ত ধারাবাহিক ও নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ডাকসুর সঙ্গে আগের প্রজন্মের সম্পৃক্ততা, কাজ, প্রতিকূলতা ও সাফল্য সম্পর্কে জানতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, তখনকার ছাত্র প্রতিনিধিরা রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে ছাত্রসমাজের কথা তুলে ধরেছিলেন। ভবিষ্যতে যে দল বা মতের প্রতিনিধিই দায়িত্বে আসুক, এই ইতিহাস যেন অবহেলিত না হয়। কোনো নির্দিষ্ট দল বা মতকে প্রাধান্য না দিয়ে প্রকৃত ও সত্য ইতিহাস তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়ায় ডাকসুকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

jagonews24

ডাকসুর জিএস এস. এম. ফরহাদ বলেন, ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা এবং প্রায় ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া ডাকসু সংগ্রহশালাটি সংস্কার করা হয়েছে। এখানে প্রাচীন ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত বিভিন্ন ঘটনা ক্রমানুসারে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু সাবেক ভিপির ছবি ও অন্যান্য তথ্য এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তাই আগামী এক সপ্তাহকে সংশোধন ও তথ্য সংযোজনের সময় হিসেবে রাখা হয়েছে। কারও কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য, ছবি বা সংশোধনের পরামর্শ থাকলে তা জানানোর আহ্বান জানান তিনি।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, দীর্ঘদিন অবহেলায় থাকা ডাকসু সংগ্রহশালাটি সংস্কার করে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তুলে ধরা হয়েছে। এখানে ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন-সংগ্রাম এবং ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ দলিল, ছবি ও শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯২১ সাল থেকে শুরু হওয়া ডাকসুর ইতিহাস এবং সাবেক ভিপি-জিএসদের নামসহ অনার বোর্ডও এখানে যুক্ত করা হয়েছে। সংগ্রহশালাটিকে আরও সমৃদ্ধ করতে দেশবাসী ও গবেষকদের কাছে থাকা ঐতিহাসিক দলিলপত্র এবং জুলাই আন্দোলনের দুর্লভ ছবি সংগ্রহশালায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরটি/এমকেআর



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *