September 11, 2026

শ্রমিক কল্যাণের নামে গাড়িপ্রতি ৬০ টাকা আদায়, না দিলে চলে নির্যাতন

0
faridpur-2-20260911142033.jpg


বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) সহকারী পরিচালকের নাম ভাঙিয়ে শ্রমিক কল্যাণের নামে ফরিদপুরের মহাসড়কগুলোতে ব্যাপক হারে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবহন চালকদের হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর-রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় পরিবহন চালকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতে দেখা যায়।

তবে সড়কে চাঁদা আদায়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বিআরটিএর ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক। জেলা প্রশাসনও জানিয়েছে, সড়কে চাঁদা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুটি শ্রমিক সংগঠনের নামে দূরপাল্লার প্রতিটি যাত্রীবাহী বাস থেকে ৩০ টাকা করে মোট ৬০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে এভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ ওঠে। বাসগুলো রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকা অতিক্রম করার সময় দুটি পৃথক স্থানে কয়েকজন শ্রমিক লাল পতাকা উড়িয়ে টাকা আদায় করে রসিদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। তবে টাকা আদায়কারীদের দাবি, ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়ন-১০৫৫ এবং ফরিদপুর সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের নির্দেশে তারা টাকা তুলছেন।

ফরিদপুর মোটর ওয়ার্কার্স শ্রমিক ইউনিয়ন-১০৫৫-এর সভাপতি ইয়াসিন মোল্লা বলেন, বিআরটিএ কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই টাকা তোলা হচ্ছে। এই টাকা শ্রমিকদের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।

এদিকে হঠাৎ করে সড়কে টাকা আদায় শুরু হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক শ্রমিক এটিকে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি আখ্যা দিয়ে প্রতিরোধের কথা বলছেন। এতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সড়কে টাকা আদায়ের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বিআরটিএর ফরিদপুরের সহকারী পরিচালক পলাশ খীসা বলেন, ‘সড়কে চাঁদা তোলার অনুমতি দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কেউ যদি আমার নাম ভাঙিয়ে থাকে, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’

ফরিদপুর জেলা বাস মালিক সমিতির প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এমন কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। সড়কে চাঁদা তোলার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে তা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। কেন এভাবে চাঁদা তোলা হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।

এন কে বি নয়ন/কেএইচকে/জেআইএম



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *