রেল ভ্রমণে সীমাহীন ভোগান্তি, টেকসই সমাধানের পথ কোথায়?
দীপন কুমার রায়
উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর রুট পরিবর্তন হয় কাউনিয়ায়। একটি লাইন কাউনিয়া থেকে গাইবান্ধা হয়ে বগুড়া-সান্তাহার লাইনে; অন্য একটি কাউনিয়া রংপুর থেকে পার্বতীপুর হয়ে সান্তাহারে পৌঁছায়।
উত্তরবঙ্গের লালমনিরহাট এক্সপ্রেস ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস দেরিতে আসা-যাওয়া যেন রুটিনে পরিণত হয়েছে। যারা দীর্ঘদিন এই রুটে আসা-যাওয়া করছেন; তাদের অনেকের গভীরতম ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে প্লাটফর্মে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা।
নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছাতে, চাকরিপ্রত্যাশী যাত্রীদের রেল টিকিট অনলাইনে কেনার পর সঠিক সময়ে ট্রেন না পাওয়ার কারণে খুঁজতে হয় বিকল্প পথ, গুনতে হয় মাশুল। তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর যাত্রীদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে বলা হয় না; কেন দেরি হচ্ছে, কারণ কী? এই হিসেব মেলে না সাধারণ যাত্রীদের টিকিটে।
অথচ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস রেলসেবা খাতে একটা বড় ধরনের অবদান রাখে। যাত্রীদের কথা হলো, ট্রেন যদি নিয়মিত সঠিক সময়ে আসে; তারা ট্রেনেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। অনেক যাত্রীর অভিযোগ, ইঞ্জিনগুলো এক্সচেঞ্জ করে লালমনিরহাট অঞ্চলের ট্রেনগুলোতে তুলনামূলক পাওয়ার সাপ্লাই কম এ রকম ইঞ্জিন দিয়ে চালিয়ে নিচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। মাঝে মাঝে আমাদের জন্য নতুন কোচগুলো পরিবর্তন করে পুরাতন অপরিষ্কার কোচ জুড়ে দেয়।
দেশের উত্তরাঞ্চলের জীবনযাত্রার মান অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, তার ওপর এ রকম ভোগান্তি পোহাতে হয়। রেলসেবার টেকসই সমাধানের পথ বের করতে হলে সান্তাহার থেকে কাউনিয়া কিংবা পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া ডুয়েল গেজ করা দরকার। দেশের সব বিভাগে ব্রডগেজ চালু থাকলেও লালমনিরহাট অঞ্চলে চালু নেই। যে কারণে এক প্রকার বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ।
সরকার পরিবর্তন হলেও এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হচ্ছে না রেলওয়ে সেবায়। সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমাদের দাবি, রেল ভ্রমণে জনগণের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
লেখক: মাস্টার্স শেষ পর্ব, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, কুড়িগ্রাম।
এসইউ


